পাকিস্তানের শসস্ত্র সংগঠন লশকর-এ-ত্যায়বার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আমির হামজা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে তিনি কিভাবে আহত হয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এতটুকু জানা গেছে যে বাড়িতেই জখম হন তিনি। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, লশকরের ম্যাগাজিনের সম্পাদক হামজা নিজের বাড়িতেই জখম হয়েছেন। পরে তড়িঘড়ি তাকে লাহোরের একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আইএসআই-এর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে রেখেই চিকিৎসা চলছে তার।
দিন তিনেক আগেই লশকরের অন্যতম নেতা আবু সাইফুল্লা অজ্ঞাত পরিচয়ের বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন। তারপর থেকেই লশকরের বিভিন্ন নেতার নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত সংগঠনটি। সেই আবহে হামজার জখম হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাঁধছে
মঙ্গলবার লশকরপন্থী ‘টেলিগ্রাম’ চ্যানেলগুলোতে হামজার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই ‘সঙ্কটের সময়’ দৃঢ় এবং সঙ্ঘবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশের গুজরানওয়ালা শহরের বাসিন্দা হামজা। ২০১২ সালের আগস্টে আমেরিকা তাকে বিশ্বব্যাপী ‘উগ্রবাদী’ বলে ঘোষণা করে। লশকর প্রধান হাফিজ সাঈদ এবং আব্দুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত হামজা বিভিন্ন সশস্ত্র কার্যকলাপের নেপথ্যে ছিলেন বলে দাবি গোয়েন্দাদের। হাফিজের হাত ধরেই লশকরের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসেন তিনি।
লশকরের প্রচার পরিচালনা করার মূল দায়িত্বই হামজার কাঁধে। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে তিনি ভারতে সক্রিয় ছিলেন বলে দাবি করা হয়। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, সাইফুল্লার সাথে মিলে ২০০৫ সালে বেঙ্গালুরুর ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সে’ হামলার নীল নকশা (ব্লু প্রিন্ট) তৈরি করেছিলেন হামজা। ২০১৮ সালে লশকর এবং জামাত-উদ-দাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারির পরই হাফিজের কথায় ‘জইশ-ই-মানকাফা’ নামে নতুন এক সংগঠন তৈরি করেন হামজা। সেই সময় অনেকেরই ধারণা ছিল, লশকরের মধ্যে ফাটলের কারণেই নতুন সংগঠনের আবির্ভাব, এই পদক্ষেপ ভেতর থেকে লশকরকে দুর্বল করে দেবে বলে মনে করেছিলেন অনেকে। তবে আদৌ তা হয়নি। গোয়েন্দাদের মতে, নতুন সংগঠন ছিল ‘চোখে ধুলো’ দেয়ার এক কৌশলমাত্র।
পেহেলগাম হামলার পর থেকেই সশস্ত্র কার্যকলাপকে কেন্দ্রে করে ভারত এবং পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে নতুন করে। ভারতের দাবি, পাকিস্তান উগ্রবাদকে মদদ দিচ্ছে। তবে ইসলামাবাদের দাবি, তারা এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত নয়। সেই আবহেই ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘সিঁদুর’ অভিযানে ‘পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মিরে হামলা করে। তার পর থেকেই ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক অস্থিরতার সৃষ্টি হয়।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা