ইসরাইলে ৭ অক্টোবর ২০২৩ সালে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হামলার পূর্বাভাস দিতে ব্যর্থতার জন্য ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির নিরাপত্তা বিভাগের প্রধানকে বরখাস্ত করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় ইসরাইলি মন্ত্রিসভা রোনেন বারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি ২০২১ সালের অক্টোবরে শিন বেতের প্রধান হিসেবে পাঁচ বছরের মেয়াদে নিযুক্ত হন।

এর আগে, রোববার এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু শিন বেতের প্রধানকে বরখাস্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তিনি তাদের দু’জনের মধ্যে চলমান অবিশ্বাস থাকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সময়ের সাথে সাথে এটি আরো বেড়েছে।’

এই পদক্ষেপ জেরুসালেমে ক্ষোভের সৃষ্টি করে এবং সরকার বিরোধী বিক্ষোভ আরো তীব্র করে তোলে। হাজার হাজার ইসরাইলি গাজায় ইসরাইলের নতুন আক্রমণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভে যোগ দেয়।

শিন বেত ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এবং যুদ্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর কার্যক্রম ও সদস্যপদ ঘনিষ্ঠভাবে রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা রক্ষা করে।

এদিকে বার তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছেন।

ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহারভ-মিয়ারা বলেন, এই পদক্ষেপের বৈধতা মূল্যায়ন না করা পর্যন্ত বারকে বরখাস্ত করা যাবে না। বাহারভ-মিয়ারা নেতানিয়াহুর একজন কট্টর সমালোচক। তিনি নিজেও বরখাস্তের মামলার মুখোমুখি হয়েছেন।

বৈঠকের আগে নেতানিয়াহু সরকারের সদস্যদের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে প্রধানমন্ত্রী ও বারের মধ্যে ‘পেশাদার ও ব্যক্তিগত আস্থার ক্রমাগত হ্রাসের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং তার মেয়াদ ২০ এপ্রিল শেষ হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘৭ অক্টোবরের অপারেশনাল ব্যর্থতার পরেও এবং বিশেষ করে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধের সময় পেশাদার আস্থার ক্ষতি আরো ঘনীভূত হয়েছে।

ওই হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ জন ইসরাইলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে পণবন্দী করা হয়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৭ অক্টোবরের পর গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর ব্যাপক সামরিক অভিযানে ৪৮ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি