সিরিয়ায় শর্তসাপেক্ষে আংশিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে তারা উভয় দেশের ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন সূত্রের সাথে কথা বলেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র উগ্রবাদবিরোধী সহযোগিতা, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের ভাণ্ডার ধ্বংস, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পদে কোনো বিদেশী যোদ্ধার অন্তর্ভুক্তি নিষিদ্ধকরণ এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ মার্কিন মেরিন-সাংবাদিক অস্টিন টাইসকে খুঁজে বের করতে সহায়তার জন্য একজন লিয়াজোঁ নিয়োগ চায়।

ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পক্ষ থেকে সিরিয়ার শাসক প্রতিষ্ঠানের সাথে লেনদেনের অনুমতি প্রদানকারী বিদ্যমান ছাড়ের মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে সিরিয়া মার্কিন শর্ত পূরণ করার পর বা আদৌ কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে কিনা, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

রয়টার্স আরো জানিয়েছে, সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সমর্থন করে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিবৃতি প্রকাশ করবে।

পররাষ্ট্র দফতরের সিরিয়া ফাইল তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নাতাশা ফ্রান্সেশি গত সপ্তাহে ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত সিরিয়ার দাতা সম্মেলনের ফাঁকে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানীকে মার্কিন দাবির তালিকা হস্তান্তর করেন বলে জানা গেছে।

সিরিয়ায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুবিধার্থে, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছয় মাসের জন্য একটি সাধারণ লাইসেন্স জারি করেছিল। তবে কাতার সরকারের মতো সংস্থাগুলোকে সিরিয়ার সরকারি বেতনের জন্য নগদ অর্থ স্থানান্তরের অনুমতি দেয়ার জন্য এটি যথেষ্ট ছিল না।

সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দীর্ঘদিন ধরে তার দেশের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন, যাতে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা যায় এবং ১৪ বছরের যুদ্ধের পর পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব হয়। বিদ্রোহী বাহিনীর নেতৃত্বে থাকা শারা রাজধানী দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পর গত ডিসেম্বরে সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে যান।

সেই মাসে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা পদে নিযুক্ত ৫০ জনের মধ্যে ছয়জন ছিলেন বিদেশী যোদ্ধা, রয়টার্স সে সময়ে জানিয়েছিল। এই সিদ্ধান্ত অনেককে উদ্বিগ্ন করেছিল, যারা শারার পরিকল্পনা সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করেছিল এবং সিরিয়ার সংখ্যালঘুরা হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করেছিলেন।

চলতি মাসে আসাদপন্থিরা- যাদের বেশিরভাগই আলাউত সম্প্রদায়ের- নতুন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর আক্রমণ চালানোর পর সিরিয়ার পশ্চিমে শত শত সংখ্যালঘু আলাউই নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সেই সময়ে ‘বিদেশী উগ্রবাদীদের’ নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দেন।

শারা, যিনি পূর্বে আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি নামে পরিচিত ছিলেন, সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিবে আল-কায়েদার একটি শাখার নেতা ছিলেন। ২০১৫ সাল থেকে গত ডিসেম্বর পর্যন্ত, যখন বিদ্রোহীরা আসাদকে উৎখাতের জন্য অগ্রসর হয়, এই অঞ্চলটি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই