তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন শনিবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কিভাবে ত্রাণ পৌঁছে দেয়া যায় সেই বিষয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের নেতাদের সাথে তুরস্কে বৈঠক করেছেন। গাজায় গত মাসে ইসরাইল তাদের সামরিক আক্রমণ পুনরায় শুরু করেছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু অ্যাজেন্সি সূত্রে বাংলাদেশের বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, কালিন গাজা নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের রাজনৈতিক কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ দারবিশ ও তার প্রতিনিধি দলের সাথে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার উদ্যোগ এবং গাজার জনগণকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত করার ইসরাইলি পরিকল্পনা মোকাবেলার উপায় নিয়েও আলোচনা করেছেন।

বাসসের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, কালিন হামাসের প্রতি তুরস্কের অব্যাহত সমর্থনে আশ্বস্ত করেছেন এবং বলেছেন আঙ্কারা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল বা সংযুক্ত করার যেকোনো নতুন পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করবে।

এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, তাদের নেতারা যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে অবিলম্বে একটি বিস্তীর্ণ বন্দী বিনিময় চুক্তিতে পৌঁছানোর পাশাপাশি গাজা থেকে ইসরাইলি সৈন্য প্রত্যাহার, গাজা পুনর্নির্মাণ এবং ইসরাইলের অবরোধ তুলে নেয়ার বিষয়ে তাদের আগ্রহের ওপর জোর দিয়েছেন।

এটি স্বাধীন ও যোগ্য জাতীয় ব্যক্তিত্বদের সমন্বয়ে গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি প্রতিষ্ঠায় মিসরীয় প্রস্তাবের তাৎক্ষণিক বাস্তবায়ন দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

হামাস বৃহস্পতিবার ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির জন্য ইসরাইলের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ১৮ মাস ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি ব্যাপক চুক্তির আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২ মার্চ থেকে ইসরাইল গাজায় ত্রাণ প্রবেশের ওপর সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করেছে।

হামাস ইসরাইলকে অনাহারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে। কিন্তু ইসরাইল তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ইসরাইল বলেছে, গাজায় এখনো বন্দী ৫৮ জন পণবন্দীকে মুক্তি দিতে হামাসকে বাধ্য করার এটাই একমাত্র উপায়।

জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করে বলেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলের ওপর হামাসের আক্রমণের ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলটি সবচেয়ে গুরুতর মানবিক সংকটের কবলে পড়েছে।