ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি ভারত সরকারকে দেশটির সাবেক মুসলিম শাসকদের ‘দয়া ও দানশীলতা‘ স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি পাকিস্তানকে ‘তাদের আক্রমণকারীদের উপর বিজয়’ অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান।

চার দিন ধরে চলা গোলাবর্ষণ ও নজিরবিহীন বিমান হামলার পর শনিবার ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়।

এরপর সোমবার ওমানের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ আহমেদ বিন হামাদ আল-খলিলি এক বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আশা করি তারা (পাকিস্তান) নির্যাতিত মুসলিম ভাইদের পাশে, বিশেষ করে আল-আকসার পবিত্র ভূমিতে, সব শক্তি ও দৃঢ়তা নিয়ে দাঁড়াবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ভারত সরকারকে মুসলমানদের প্রতি তার শত্রুতা ত্যাগ করার এবং অতীতে মুসলিম শাসকরা তার জনগণের প্রতি—ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে—যে দয়া ও দানশীলতা দেখিয়েছিলেন, তা স্মরণ করার আহ্বান জানাই।’

ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের আগে উপমহাদেশের বহু অঞ্চল মুসলিম শাসকদের দ্বারা শাসিত ছিল। ১৬ শতক থেকে ১৮ শতক পর্যন্ত মুঘল সাম্রাজ্য ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেছে।

ওমান, গোয়াদর ও পাকিস্তান

শনিবার ওমান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায়। ওমানের ভারত ও পাকিস্তান—উভয়ের সাথেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। একইসাথে তাদের পাকিস্তানের সাথে একটি সামুদ্রিক সীমান্ত রয়েছে।

গোয়াদর বন্দর, বর্তমানে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে অবস্থিত। ১৭৮৪ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই শতাব্দী ধরে ওমানের অধীনে ছিল।

১৯৫৬ সালে ওমান সদ্য স্বাধীন ভারতের কাছে গোয়াদর বিক্রির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন ভারত সরকার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৫৮ সালে ওমান বন্দরটি পাকিস্তানের কাছে বিক্রি করে দেয়।

গ্র্যান্ড মুফতির অভিযোগ যে ভারত সরকার মুসলমানদের প্রতি ‘শত্রুতা‘ প্রদর্শন করছে, তা সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেয়ার অভিযোগের দিকেই ইঙ্গিত করে।

২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টির আমলে হিন্দুত্ববাদ আরো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে মুসলিম, শিখ ও খ্রিস্টানসহ সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বৈষম্যের ঘটনা বেড়েছে।

২০০২ সালে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মোদিকে এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় মুসলমান হত্যার জন্য ‘সরাসরি দায়ী‘ বলা হয়।

সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের পটভূমি

২২ এপ্রিল ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতীয় পর্যটকদের উপর সন্দেহভাজন বিদ্রোহীদের এক নৃশংস হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সঙ্ঘাতের সূচনা হয়। ভারত এর জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে। তবে ইসলামাবাদ উগ্রবাদীদের সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে।

৭ মে বুধবার সকালে ভারত পাকিস্তানি ভূখণ্ডে একটি মারাত্মক হামলা চালায়। পাকিস্তানের মতে, এতে বেসামরিক নাগরিকসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়।

ভারত জানায়, পাকিস্তানি গোলাবর্ষণে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে বেসামরিকরাও রয়েছে।

এরপর দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে চার দিন ধরে তীব্র বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ চলে। শেষপর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ঘোষণা দেন যে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে।

কাশ্মির নিয়ে দ্বন্দ্ব ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনটি যুদ্ধের কারণ হয়েছে। উভয় দেশই অঞ্চলটি দখলের জন্য একে অপরকে দোষারোপ করে।

ভারত কাশ্মিরকে তার সার্বভৌমত্বের ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ‘ বলে দাবি করে, অন্যদিকে পাকিস্তান পুরো কাশ্মির, এমনকি পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত অংশসহ, কাশ্মিরিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার দেওয়ার জন্য গণভোটের আহ্বান জানায়।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই