গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা নতুন নতুন এলাকাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। বিশেষ করে গাজার উত্তর অংশ, মধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণ অংশে ইসরাইলি বাহিনীর জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির আদেশের মুখোমুখি হচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা।

গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরাইলি বাহিনী বাইত হানুন ও খান ইউনিসসহ বিভিন্ন অঞ্চলে লিফলেট ছুড়ে ফিলিস্তিনিদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে বাইত হানুনের বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলা হয়েছে যে তারা যেন এলাকা ছেড়ে চলে যায়। একইসাথে খান ইউনিসে আল-মাওয়াসির পশ্চিম অংশে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

কিন্তু এবার অনেক ফিলিস্তিনি, বিশেষ করে বাইত হানুন ও অন্যান্য উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা, এই বাস্তুচ্যুতির নির্দেশ না মানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, তারা ইতোমধ্যে বহুবার বাস্তুচ্যুতির শিকার হয়েছেন এবং আরেকবার বাড়িঘর ছেড়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে যেতে চান না।

বেইত হানুনের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের হারানোর আর কিছু নেই। আমরা কোথায় যাব? প্রতিবার আমাদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু নিরাপদ আশ্রয় কোথায়? আমাদের জন্য আর কোনো জায়গা নেই।’

গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং মানবিক সঙ্কটের প্রেক্ষাপটে ইসরাইলি বাহিনীর এই নতুন বাস্তুচ্যুতির আদেশ আরো উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল এবং এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এই মানবিক সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে বাস্তবতা হলো, গাজার অনেক বাসিন্দাই আর বাস্তুচ্যুতি মেনে নিতে রাজি নন। তারা তাদের ভূমিতে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সূত্র : আল জাজিরা