লেবাননের প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যেই সংগঠনটির নেতা নাঈম কাসেম শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেউ হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে পারবে না।
হিজবুল্লাহ-পরিচালিত একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া বক্তব্যে কাসেম বলেন, ‘আমরা কাউকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে নিরস্ত্র করতে দেব না। আমাদের অভিধান থেকে নিরস্ত্রীকরণের এই ধারণাটি বাদ দিতে হবে।’
লেবাননের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পরিচিত হিজবুল্লাহ। কিন্তু গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরাইলের সাথে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা শত্রুতার কারণে গোষ্ঠীটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইসরাইলের স্থল আক্রমণ এবং দুই মাসের ভারী বোমাবর্ষণ গোষ্ঠীর নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান ঘটে। কিন্তু তার আগেই ইসরাইলি বিমান হামলায় নিহত হন সংগঠনটির দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরুল্লাহ। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন নাঈম কাসেম।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হিজবুল্লাহর আরেক শীর্ষ নেতা ওয়াফিক সাফা বলেন, ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন থেকে সম্পূর্ণরূপে সরে না যাওয়া পর্যন্ত এবং আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে আলোচনা হবে না।
আল-নূর রেডিওতে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নিরস্ত্রীকরণের কোনো প্রশ্নই আসে না। প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের অভিষেক ভাষণে যেটি বলা হয়েছে, তা আসলে একটি প্রতিরক্ষামূলক কৌশল।’
নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির অধীনে, ইসরাইলকে দক্ষিণ লেবানন থেকে তার বাহিনী প্রত্যাহার করার কথা ছিল। কিন্তু চুক্তি সত্ত্বেও তাদের সৈন্যরা দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি অবস্থানে রয়ে গেছে, যেগুলোকে তারা ‘কৌশলগত’ বলে মনে করে। ইসরাইল লেবাননে প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, তারা হিজবুল্লাহর সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির অধীনে হিজবুল্লাহকে লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে তার যোদ্ধাদের ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দক্ষিণে অবশিষ্ট যেকোনো সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে।
সাফা শুক্রবার বলেন, হিজবুল্লাহ ও লেবাননের সেনাবাহিনী উভয়ই যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে চলছে। তিনি বলেন, ‘সমস্যার উৎস ইসরাইল, যারা এখনো অস্ত্রবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে যাচ্ছে।’