ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি বৈঠকে বসেছেন। শনিবার (১৯ এপ্রিল) ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আলোচনা হয়েছে এবং দু’পক্ষই আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে। আগামী ২৬ এপ্রিল আবার আলোচনায় বসতে পারেন তারা।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির বরাত দিয়ে বাসস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওমান এই আলোচনার মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। এর আগে প্রথম দফার বৈঠক হয়েছিল ওমানের রাজধানী মাসকাটে। দেশটির সরকার জানিয়েছে, তৃতীয় দফার আলোচনা আবারো মাসকাটেই অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, রোমের বৈঠকে ‘গঠনমূলক’ পরিবেশ বজায় ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, আগামী কিছুদিন দু’দেশ ‘পরোক্ষভাবে’ আলোচনায় যুক্ত থাকবে।
অপরদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ আলোচনার ধারা বজায় রাখতে সম্মত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ধীরে ধীরে গতি পাচ্ছে এবং যা আগে অকল্পনীয় ছিল সেটি এখন সম্ভাবনার পরিসরে এসেছে।
আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে ইরানও আশাবাদী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেছেন, এবারের বৈঠক থেকে কিছু অগ্রগতি পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দু’পক্ষের নীতিগত অবস্থান ও লক্ষ্য নিয়ে বোঝাপড়ায় উন্নতি হয়েছে।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের সময় ইরানের সাথে একটি পারমাণবিক চুক্তি করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই চুক্তি অনুযায়ী, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং বিনিময়ে তাদের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন।
পরে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশলের মাধ্যমে আবারো ইরানের ওপর কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন ট্রাম্প। তবে গত মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে উদ্দেশ করে লেখা এক চিঠিতে তিনি নতুন করে আলোচনার আহ্বান জানান। একইসাথে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
বর্তমানে রোমে অনুষ্ঠিত আলোচনা ও ভবিষ্যৎ বৈঠকের পরিকল্পনা ইঙ্গিত দিচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে ভেঙে পড়া সংলাপ আবারো জোড়া লাগতে শুরু করেছে।