হামাসের বন্দীদশা থেকে ফিরে তেল আবিবে নিজের বাসায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন ইসরাইলি নারী মিয়া শেম। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামলা চালিয়ে হামাস যাদের পণবন্দী করে গাজায় নিয়ে গিয়েছিল, তিনি তাদের একজন।

মিয়া শেম তেল আবিবের একজন সুপরিচিত প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন।

শনিবার তিনি বলেন, ওই প্রশিক্ষক তাকে তার বাড়িতে একটি সভা আয়োজন করতে রাজি করিয়েছিলেন, সেখানে হলিউডের একজন প্রযোজক উপস্থিত থাকবেন।

মিয়া শেম বৃহস্পতিবার নিজেকে মামলার বাদি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ৩০ বছর বয়সী সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে মার্চের শেষের দিকে তার বাড়িতে অভিযানের সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে তাকে পুলিশ হেফাজত থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল, কিন্তু মামলায় এখনো সন্দেহভাজন হিসেবে রয়েছেন।

শনিবার রাতে মিয়া শেম ইসরাইলি টেলিভিশন চ্যানেল-১২-তে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সেখানে তিনি নিজের বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমি সত্য প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি সেই ব্যক্তি নই যার লুকানোর দরকার আছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাজীবন এটাই আমার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, বন্দী হওয়ার আগে, বন্দী থাকার সময়। বন্দীদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আমার বাড়িতে সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা, সেখানেই আমার সাথে এটা ঘটেছে।’

চ্যানেল ১২ অনুসারে, মিয়া শেম ও প্রশিক্ষকের মার্চ মাসে একটি ‘পুরিম পার্টিতে’ দেখা হয়েছিল।

মিয়া শেম বলেন, ‘তার স্টুডিওটি আমি যেখানে থাকি তার খুব কাছে।’

পরের সপ্তাহগুলোতে শেম প্রশিক্ষকের সাথে তিনটি প্রশিক্ষণ অধিবেশন করেছে বলে জানা গেছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি শেমের সাথে তার নিজের মানসিক অবস্থা এবং ব্যক্তিগত বিষয়গুলো নিয়েও কথা বলেছে। তিনি মিয়া শেমকে হলিউডের একজন চলচ্চিত্র প্রযোজকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেন।

শেম দাবি করেন, তাকে বলা হয়েছিল যে তার জীবনের গল্প নিয়ে একটি সিনেমা তৈরি হতে পারে।

জানা গেছে, শেম প্রযোজকের সাথে দেখা করার জন্য একটি হোটেলে দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করেছিলেন, কিন্তু তিনি আসেননি। এরপর তার বাড়িতে দ্বিতীয় সাক্ষাতের আয়োজন করা হয়।

শেম বলেন, ‘আমি আগের রাতে আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধুকে বলেছিলাম, রোববার আমার বাড়িতে একজন সিনিয়র হলিউড চলচ্চিত্র প্রযোজকের সাথে সাক্ষাৎ হবে এবং আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ যে তুমি বাড়িতে আমার পাশে থাকো।’

চ্যানেল ১২ অনুসারে, নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পরে প্রশিক্ষক এসে পৌঁছান। তিনি শেমের বন্ধু অ্যাবিকে আক্রমণাত্মকভাবে সাক্ষাতের গুরুত্বের কারণে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলেন।

অ্যাবি চ্যানেল ১২-কে স্মরণ করিয়ে দেন যে চলে যেতে বলার পর তিনি বুঝতে পারেননি যে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। কিন্তু যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন মিয়া শেম স্বাভাবিক ছিলেন না।

শেম জানান, সেদিনের ঘটনা থেকে তার কেবল একটাই মনে আছে যে সে সামনে বসে আছেন। তিনি বুঝতে পারেন যে আমার সাথে কিছু একটা ঘটেছে।

চ্যানেল ১২ জানান, পরদিন মিয়া শেম প্রশিক্ষককে টেক্সট করে জিজ্ঞাসা করেন যে বৈঠকের সময় সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিনা। প্রশিক্ষক এর ইতিবাচকভাবে উত্তর দেন।

ভবনের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ হলে তাতে দেখা গেছে, প্রশিক্ষক বিকেল ৪টায় আসেন এবং অন্য একজন ব্যক্তি- যিনি হলিউডের প্রযোজক ছিলেন না তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আসেন। দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় অস্পষ্ট, কিন্তু জানা গেছে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এক ঘণ্টা পরে পেছনের দরজা দিয়ে তিনি ভবনটি ছেড়ে যান এবং প্রশিক্ষক ২০ মিনিট পরে চলে যান।

ঘটনার পর শেমের পরিবার লক্ষ্য করেছে যে সে ভিন্ন আচরণ করছে।

মিয়া যেদিন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করছেন, সেদিন বিকেলের ঘটনা তার আবছা মনে আছে বলে জানান তিনি। এই তরুণী বলেন, প্রশিক্ষক যখন তার কক্ষে প্রবেশ করেন, তখন তিনি বিবস্ত্র ছিলেন। ঘরে তিনি দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়েছিলেন।

শেমের এক বন্ধু বলেন, সম্ভবত তাকে (মিয়া শেম) মাদক দেয়া হয়েছিল। পরে তিনি পুলিশের কাছে যান এবং পুলিশ তাকে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার ব্যক্তিদের পরীক্ষা করা হয়, এমন একটি সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়।

সেখানে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায় যে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।

সূত্র : টাইমস অব ইসরাইল