সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে কোয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় কমপক্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার সশস্ত্র যোদ্ধারা ইসরাইলি সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর এই হামলা চালানো হয়। তবে ইসরাইলি বাহিনী তখন সিরিয়ার ভূখণ্ডে অবস্থান করছিল কিনা তা স্পষ্ট করে বলা হয়নি। তারা জানিয়েছে, তাদের সেনারা পাল্টা গুলি চালায় এবং একটি ইসরাইলি যুদ্ধবিমান যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালায়। তারা হতাহতের কোনো বিবরণ দেয়নি তবে বলেছে, আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটির ভূখণ্ডে অব্যাহত ইসরাইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলি আগ্রাসনের ফলে দক্ষিণ দেরা প্রদেশের কুওয়াইয়া গ্রামে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

মন্ত্রণালয়টি সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরাইলি হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এগুলো সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে, ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা সিরিয়ার তাদমুর ও টি৪ সামরিক ঘাঁটিতে থাকা সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছে। তারা পালমিরার ঘাঁটি ও শহরের আরো ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ঘাঁটির কথা উল্লেখ করেছে। শুক্রবার সামরিক বাহিনী একই ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে।

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দক্ষিণ সিরিয়া অসামরিকীকরণের দাবি জানান। এটি ইসরাইলি-অধিকৃত গোলান মালভূমির সীমান্তবর্তী অঞ্চল।

মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘে সিরিয়ার বিশেষ দূত গেইর পেডারসেন নিরাপত্তা পরিষদকে বলেন, তিনি সিরিয়ায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অবস্থান ও দক্ষিণের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের দাবিতে উদ্বিগ্ন।

মার্চের শুরুর দিকে কায়রোতে এক আরব শীর্ষ সম্মেলনে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দক্ষিণ সিরিয়া থেকে অবিলম্বে সৈন্য প্রত্যাহারের জন্য ইসরাইলের উপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি তাদের উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের শান্তির জন্য সরাসরি হুমকি বলে অভিহিত করেছিলেন।

সূত্র : আল জাজিরা