গাজায় ইসরাইলের ভয়াবহ হামলায় কমপক্ষে ৪০৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৫৬২ জন আহত হয়েছেন। ইসরাইলের চালানো এ ‘গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূল অভিযানে’র নিন্দা জানিয়েছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই গাজায় ইসরাইলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেত এবং খাদ্য ও ওষুধের উপর চলমান অবরোধের মধ্যে’ এই হামলা চালানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে তিনি ইসরাইলের এ হামলাকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ‘গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূলে’র ধারাবাহিকতা হিসাবে বর্ণনা করেছেন।
মার্কিন সরকারের সরাসরি দায়বদ্ধতার উপর জোর দিয়ে বাঘাই বলেন, ইসরাইলের ‘আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘনের’ বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষ্ক্রিয়তা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৭ মাসব্যাপী চলা এ যুদ্ধের মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্বাধীনতাকামী হামাস যোদ্ধারা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করেছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
আলবানিজ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ইতোমধ্যে বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটেছে। আমরা কেন উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং পণবন্দীদের মুক্তি দেয়ার বিষয়টির প্রতি সম্মান দেখাচ্ছি না।’
তিনি আরো বলেছেন, আমরা প্রতিনিধিত্ব করতে সব সময় রাজি। অস্ট্রেলিয়া এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় সব সময় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামাস তাদের ‘জিম্মি’দের মুক্তি দিতে বারবার অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের দূত স্টিভ উইটকফ ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর এই হামলার নির্দেশ দেয়া হয়।
একজন ইসরাইলি কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, অভিযান ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন অব্যাহত থাকবে এবং বিমান হামলার বাইরেও বিস্তৃত হবে।’
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘নেতানিয়াহু ও তার চরমপন্থী সরকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার ফলে গাজার বন্দীরা এক অজানা পরিণতির মুখোমুখি হচ্ছে।’
কাতার, মিশর ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়, যুদ্ধবিরতির প্রাথমিক পর্যায় ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হলে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ওপর হামাসের হামলার ফলে গাজায় ১৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ মূলত বন্ধ হয়ে যায়।
সূত্র : আল-জাজিরা