গত ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গাজা ডিভিশনের নর্দার্ন ব্রিগেডের কমান্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

টাইমস অফ ইসরাইল জানিয়েছে, হাইম কোহেন স্বীকার করেছেন যে ব্রিগেড হামলার সময় ব্যর্থ হয়েছে এবং তিনি এর দায়ভার গ্রহণ করছেন। ইয়েদিওথ আহরোনোথ দৈনিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোহেন তার পদত্যাগপত্রে লিখেছেন, ‘ফলাফল দেখায় যে আমি ব্যর্থ!!!’ তিনি এই চিঠি সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল ইয়ানিভ আসোরকে জমা দিয়েছেন।

গাজা সীমান্তে মোতায়েন গাজা ডিভিশনে তিনটি ব্রিগেড রয়েছে। তা হলো উত্তর, মধ্য এবং দক্ষিণ। কোহেন স্বীকার করেছেন, ‘৭ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সময় গাজা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্য আমার ব্রিগেড তার মিশন পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।’

২০২৩ সালের অক্টোবরের হামলার পর ‘গুরুতর ব্যর্থতার’ বিভিন্ন প্রতিবেদনের কারণে সামরিক বাহিনীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদত্যাগ ঘটেছে।

সেনাবাহিনীর প্রধান স্টাফ হার্জি হালেভি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে পদত্যাগ করেন। দক্ষিণ কমান্ডের নেতা ইয়ারন ফিনকেলম্যানও পদত্যাগ করেন। তিনি পশ্চিম নেগেভ সম্প্রদায়গুলোকে রক্ষা করতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন।

এছাড়া গাজা ডিভিশনের কমান্ডার আভি রোজেনফেল্ড সীমান্তের কাছে জনবসতি রক্ষা করতে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন। সামরিক গোয়েন্দা অধিদফতরের প্রধান আহরন হালিভাও তার সংস্থার ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করেছেন।

তদন্তের পর অপারেশন ডিরেক্টরেটের প্রধান ওদেদ বাসিয়ুক পদত্যাগ করেন, যিনি সামরিক বাহিনীতে চিফ অফ স্টাফ এবং ডেপুটি চিফের পরে তৃতীয় সর্বোচ্চ পদে ছিলেন।

অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াভ গ্যালান্টকে ‘বিশ্বাসের সঙ্কট’ উল্লেখ করে বরখাস্ত করেছেন।

যদিও সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ৭ অক্টোব, ২০২৩ সালের হামলার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন, নেতানিয়াহু কোনো দোষ স্বীকার করেননি এবং আগাম নির্বাচনের জন্য বিরোধী দলের আহ্বান উপেক্ষা করেছেন।

বিরোধীরা নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে যে তিনি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের উপর দোষ চাপিয়ে ব্যর্থতার জন্য একটি রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনে বাধা দিচ্ছেন।

এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর নৃশংস হামলায় প্রায় ৫০ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গত নভেম্বরে গাজায় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

এছাড়া ইসরাইল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি রয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি