গাজায় হামাসের হাতে থাকা জীবিত ও মৃত বন্দীদের অর্ধেককে মুক্তি দেয়ার শর্তে ৫০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির জন্য নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইসরাইল। দেশটির চ্যানেল ১৩ এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইল আগে একটি মধ্যস্থতাকারী-সমর্থিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল, যেখানে মাত্র পাঁচজন বন্দীকে মুক্তির শর্ত ছিল। যার মধ্যে মার্কিন-ইসরাইলি নাগরিক এডান আলেকজান্ডারও ছিলেন।

ইসরাইলি অনুমান অনুযায়ী, বর্তমানে গাজায় ৫৯ জন বন্দী রয়েছে, যাদের মধ্যে ২৪ জন জীবিত। অন্যদিকে, ইসরাইল ৯,৫০০-এর বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক রেখেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, বন্দিদের প্রতি কঠোর ও অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে নির্যাতন, অবহেলা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।

নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে শনিবার রাতে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা দীর্ঘ বৈঠকে বসে। সেখানে নতুন মধ্যস্থতাকারী প্রস্তাবের বিষয়ে আলোচনা করা হয় এবং হামাসের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

এ বিষয়ে ইসরাইল, মিশর ও কাতারের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় নিশ্চিত করেছে যে, তারা একটি বিকল্প প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা সম্পূর্ণরূপে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। যদিও কোনো পক্ষই এই প্রস্তাবের বিস্তারিত জানায়নি।

আন্তর্জাতিক ও আরব মিডিয়াগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশর ও কাতার সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময়ের নতুন চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে, যা একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার পরে দ্বিতীয় ধাপে কার্যকর হবে। এ বিষয়ে হামাসের গাজা শাখার নেতা খালিল আল-হাইয়া শনিবার ঘোষণা করেন যে, হামাস নতুন প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ইসরাইল এর বাস্তবায়নে বাধা দেবে না।

গাজায় দীর্ঘ ১৫ মাসের ইসরাইলি আগ্রাসনের পর গত ১৯ জানুয়ারি প্রথম দফার বন্দি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতির একটি চুক্তি মিশর ও কাতারের মধ্যস্থতায় মার্কিন সমর্থনে কার্যকর হয়েছিল এবং এটি মার্চের শুরুতে শেষ হয়।

আন্তর্জাতিক ও ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের মতে, হামাস চুক্তির শর্ত মেনে চলেছে, কিন্তু নেতানিয়াহু তার চরমপন্থি জোটের চাপে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে এগোনোর অনুমতি দেননি। এরপর গত ১৮ মার্চ ইসরাইল গাজায় আকস্মিক বিমান হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি লঙ্ঘন করে।

এরপর থেকে ইসরাইলের অব্যাহত হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং ২,৫০০ জন আহত হন।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান ইসরাইলি আগ্রাসনে ৬৩,০০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহতের সংখ্যা ১,২৪,০০০ ছাড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গত বছরের নভেম্বরে নেতানিয়াহু এবং তার তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এছাড়াও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে মামলা চলমান।

সূত্র : আনাদোলু