ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৬০ জন।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরাইল গাজায় বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছে এবং গাজা শহরের আল ডোরা পেডিয়াট্রিক হাসপাতালে আক্রমণ করেছে। এছাড়া মঙ্গলবার উপত্যকাজুড়ে কমপক্ষে ৩২ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলের গণহত্যায় মোট নিহতের সংখ্যা ৫১ হাজার ২৬৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে তুর্কী বার্তাসংস্থা আনাদোলু অ্যাজেন্সির পৃথক এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরো ৬০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এতে ইসরাইলি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে আহতের সংখ্যা এক লাখ ১৬ হাজার ৯৯১ জনে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘অনেক ভুক্তভোগী এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।’
চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর চাপে বাধ্য হয়ে ইসরাইল অবরুদ্ধ গাজায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির দুই মাসের মধ্যেই ইসরাইল আবারো ব্যাপকহারে সামরিক অভিযান চালানো শুরু করে। গত ১৮ মার্চ ভোরে শুরু হওয়া অভিযানে এখনো পর্যন্ত কমপক্ষে এক হাজার ৯০০ নিহত এবং চার হাজার ৯৫০ জন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন। এর আগে, ইসরাইল গত ২ মার্চ থেকে গাজায় সব ধরনের মানবিক সহায়তার প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে সেখানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
গাজায় সামরিক অভিযান চালানোর জন্য গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ইসরাইলের বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলাও দায়ের করা হয়েছে।