ইরানের বিভিন্ন কর্মকর্তা, মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূত এবং ইরানি জনগণের বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের সাথে এক বৈঠকে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম খামেনেয়ি সকল মুসলিম দেশের প্রতি ইরানের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ হাত বাড়িয়ে দেয়ার কথা উল্লেখ করে বলেছেন, ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইসরাইল ও তার সমর্থকদের নজিরবিহীন অপরাধযজ্ঞ মোকাবেলা করার উপায় হলো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঐক্য, সহানুভূতি এবং অভিন্ন ভাষা ব্যবহার করা।
সোমবার সকালে সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের ওয়েবসাইটের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, ইমাম খামেনেয়ি এই বৈঠকে মুসলিম জাতি এবং ইরানী জাতিকে পবিত্র ও বরকতময় ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই ঈদকে মুসলিম বিশ্বের সাথে ইসলাম ও তার পবিত্র নবীর ক্রমবর্ধমান মর্যাদার সংযোগের অন্যতম কেন্দ্র বলে অভিহিত করেছেন।
তিনি আরো বলেছেন, ‘ইসলামের ক্রমবর্ধমান মর্যাদা অর্জনের পূর্বশর্ত হলো মুসলিম জাতিগুলোর ঐক্য, দৃঢ় সংকল্প এবং অন্তর্দৃষ্টি।’
ধারাবাহিক এবং দ্রুত বৈশ্বিক ঘটনাবলীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দ্রুত ঘটনার প্রতিক্রিয়ায়, মুসলিম সরকারগুলোকে তাৎক্ষণিক এবং সঠিকভাবে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করতে হবে এবং নিজেদের জন্য চিন্তাভাবনা এবং পরিকল্পনা করতে হবে।’
ইসলামী বিপ্লবের নেতা বিশাল মুসলিম জনসংখ্যা, প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ভৌগোলিক দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে মুসলিম বিশ্বের জন্য বিরাট সুযোগ হিসেবে অভিহিত করে বলেছেন, এই সুযোগ এবং সুবিধাজনক পরিস্থিতি কাজে লাগানোর পূর্বশর্ত হলো মুসলিম বিশ্বের ঐক্য। অবশ্য, ঐক্যের অর্থ এই নয় যে সরকারগুলো ঐক্যবদ্ধ হবে বা তারা সমস্ত রাজনৈতিক ধারায় একইভাবে চিন্তা করবে। বরং এই ঐক্যের অর্থ হলো অভিন্ন স্বার্থকে মেনে নেয়া এবং নিজেদের স্বার্থকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা যাতে তা একে অপরের মধ্যে মতবিরোধ, দ্বন্দ্ব বা বিরোধের কারণ না হয়।
সমগ্র মুসলিম বিশ্ব একটি পরিবার এবং মুসলিম সরকারগুলোকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে চিন্তাভাবনা এবং কাজ করতে হবে এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘ইরান সমস্ত মুসলিম সরকারের প্রতি তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে এবং মৌলিক দিক থেকে নিজেদের ভাই বলে মনে করে।’
ইমাম খামেনেয়ি মুসলিম সরকারগুলোর সহযোগিতা এবং ঐকমত্যকে আগ্রাসী ও নিপীড়ক শক্তির আগ্রাসন, বলপ্রয়োগ এবং স্বেচ্ছাচারিতা মোকাবেলার উপায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আজ, দুর্ভাগ্যবশত দুর্বল সরকার এবং জাতিগুলোর সাথে স্বেচ্ছাচারী আচরণ এবং বলদর্পিতা বৃহৎ শক্তিগুলোর বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তাই এর প্রতিক্রিয়ায়, আমাদের মুসলিম দেশগুলোকে মুসলিম বিশ্বের অধিকার রক্ষা করতে হবে এবং আমেরিকা ও তার মিত্রদের স্বেচ্ছাচারিতার অনুমতি দেয়া যাবে না।’