গত মাসে গাজা থেকে মুক্তি পাওয়া ইসরাইলি বন্দী ওহাদ বেন আমি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি)-কে আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা গাজায় অবশিষ্ট বন্দীদের খোঁজ নেয় এবং তাদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে।

আইসিআরসি গাজায় কার্যক্রম চালানো কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার মধ্যে একটি। তারা হামাস থেকে বন্দীদের ইসরাইলে স্থানান্তরের প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তবে যুদ্ধকালীন সময়ে গাজায় বন্দীদের সাথে দেখা করার ব্যবস্থা না করায় ইসরাইলি কর্মকর্তারা সংস্থাটির সমালোচনা করেছেন।

আইসিআরসি জানিয়েছে, তারা বন্দীদের পক্ষে ওকালতি চালিয়ে যাচ্ছে এবং সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে আটককারীদের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়।

আইসিআরসি-এর ইসরাইল ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের প্রতিনিধিদলের প্রধান জুলিয়েন লেরিসন ম্যাক ৯-এর একটি উপ-সম্পাদকীয়তে লিখেছেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক। তবে এটা সাফল্যের অভাব, কোনোভাবেই ইচ্ছার ঘাটতি বা যত্নের অভাবে নয়।’

জার্মানির সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওহাদ বেন আমি বলেন, ‘আমার বন্দীদশার ৪৯১ দিনের মধ্যে সংগঠনের কেউ আমাকে দেখেনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘এটি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা। তাদের উচিত গাজায় আটকে থাকা ৫৯ জন বন্দীর খোঁজ নেয়া এবং তাদের পরিস্থিতি বিশ্বকে জানানো। তারা বেঁচে আছে নাকি মারা গেছে? তাদের ওষুধের প্রয়োজন আছে কিনা? তাদের যথাযথ যত্ন নেয়া হচ্ছে কিনা?’

এদিকে, ইসরাইলে বন্দী ফিলিস্তিনিদের ও গাজায় আহতদের সহায়তায় যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগে আইসিআরসি সমালোচনার মুখে পড়েছে। ইসরাইল ফিলিস্তিনি বন্দীদের সাথে আইসিআরসি-এর সাক্ষাৎ প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়েছে, যদিও সংস্থাটি এটি পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছে। এছাড়া ইসরাইলি বাহিনী একাধিকবার ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চিকিৎসকদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। তখন তারা সংঘর্ষে আহতদের চিকিৎসা দিতে যাচ্ছিল।

এই পরিস্থিতিতে, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বন্দীদের প্রতি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং গাজায় আটক ব্যক্তিদের অবস্থা সম্পর্কে আরো স্বচ্ছতা আনার আহ্বান জানাচ্ছে।

সূত্র : আল জাজিরা