গাজা উপত্যকায় চিকিৎসা সঙ্কটের ভয়াবহতায় কিডনি রোগীদের ৪০ শতাংশই মারা গেছেন। বুধবার কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে গাজার কিডনি ডায়ালাইসিস রোগীদের ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।
মুখপাত্র আরো জানান, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ডায়ালাইসিস চিকিৎসা পাওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। উপত্যকায় ডায়ালাইসিস যন্ত্রপাতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং কিডনি রোগে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় ওষুধের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা অব্যাহত রাখার ন্যূনতম শর্তগুলোও এখন পূরণ করা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, ‘এই মৃত্যু সংখ্যা শুধুই পরিসংখ্যান নয়; এটি ইঙ্গিত দেয় যে কতটা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে আছে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে-এ এক নির্মম মানবিক দুর্যোগ।’
এদিকে, মার্চের শুরু থেকে ইসরাইল আরোপিত সর্বাত্মক অবরোধের কারণে গাজার পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ এবং খাদ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ নাগরিকরাও চরম দুর্ভোগে পড়েছে। মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর কোনো নির্ভরযোগ্য পথ না থাকায় আন্তর্জাতিক মহল থেকেও কার্যকর সহযোগিতা পৌঁছাতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগীদের নিয়মিত ডায়ালাইসিস চিকিৎসা না পেলে শরীরে বিষাক্ত পদার্থ জমে জীবনঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হয়। অথচ গাজার হাসপাতালগুলো বর্তমানে প্রয়োজনীয় সেবা দিতে সম্পূর্ণভাবে অক্ষম।
এই মৃত্যু সংখ্যা কেবল একটি সঙ্কেত নয়। বরং গাজার মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে যে মৃত্যুফাঁদ ছড়িয়ে পড়েছে, তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
সূত্র : আল জাজিরা