ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আগামী শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসতে ও এ বিষয়ে একটি চুক্তি সই করতে প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথমে একমত হতে হবে যে কোনো ‘সামরিক পদক্ষেপকে বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা’ যাবে না। আরাঘচি বলেছেন, ইরান কখনোই জোরজবরদস্তি মেনে নেবে না।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ওমানে আলোচনাটি পরোক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু তার এ বক্তব্য ট্রাম্পের ঘোষণার বিপরীত। ট্রাম্প সোমবার আকস্মিক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা হবে। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, আলোচনা সফল না হলে ইরান ‘বড় বিপদে’ পড়বে।
ট্রাম্প তার ক্ষমতার প্রথম মেয়াদে ইরান ও বিশ্বশক্তির মধ্যে ২০১৫ সালে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছিলেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তাই গত মাসে ট্রাম্প সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে বলা হয়েছিল, তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক হামলা এড়াতে একটি চুক্তি চান।
সোমবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হোয়াইট হাউস সফরের সময় ট্রাম্প আসন্ন আলোচনার কথা প্রকাশ করেন। মঙ্গলবার নেতানিয়াহু বলেন, উভয় নেতাই ’ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে ’সামরিক বিকল্প’ গ্রহণ করার বিষয়ে একমত হয়েছেন।
ইরান বারবারই জোর দিয়ে বলেছে, তার পারমাণবিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জনের চেষ্টা করবে না। তবে সাত বছর আগে পুনর্বহাল করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বিদ্যমান পারমাণবিক চুক্তির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধগুলো ক্রমবর্ধমানভাবে লঙ্ঘন করছে এবং বেশ কয়েকটি বোমা তৈরির জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ করেছে।
সূত্র : বিবিসি