সম্প্রতি ইসরাইলি রাজনৈতিক ভাষ্যকার ওরি গোল্ডবার্গ আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, হামাস যদি বন্দীদের মুক্তি দিতে রাজী না হয়, তাহলে গাজা দখলের জন্য ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বারবার হুমকি আসন্ন সামরিক আক্রমণের ইঙ্গিত নয়, বরং এটি তার হতাশার লক্ষণ।

গোল্ডবার্গের মতে, নেতানিয়াহু বর্তমানে অনেক দিক থেকেই চাপে রয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তিনি যুক্তি দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে সবুজ সংকেত দিতে তাড়াহুড়ো করছে না, যা নেতানিয়াহুর পরিকল্পনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এছাড়া, ইসরাইলের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে আশঙ্কা রয়েছে যে প্রয়োজনে দশ হাজার সৈন্য মোতায়েন করাও সম্ভব না হতে পারে।

ইসরাইলে চলমান গণবিক্ষোভের ফলে নেতানিয়াহু আরো চাপে রয়েছেন। বিশেষ করে বিতর্কিত রাষ্ট্রীয় বাজেট অনুমোদন এবং বিচার বিভাগীয় সংস্কারের প্রচেষ্টা তাকে ব্যাপক জনরোষের মুখে ফেলেছে। এসব কারণে তিনি অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

গোল্ডবার্গ আরো বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু হয়তো ইসরাইলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার সঠিক সময় মনে করছেন না। কারণ, তার সরকারের অভ্যন্তরীণ সমর্থন হ্রাস পাচ্ছে এবং ওয়াশিংটনের সমর্থনও অনিশ্চিত। এর ফলে তিনি প্রয়োজনীয় সম্পদ, শক্তি এবং রাজনৈতিক মূলধনের অভাবে ভুগছেন।

ওরি গোল্ডবার্গের বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে নেতানিয়াহুর যুদ্ধংদেহী বক্তব্য যতটা না বাস্তব সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তার চেয়ে বেশি তার রাজনৈতিক ও কৌশলগত সীমাবদ্ধতার বহিঃপ্রকাশ। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির কারণে তিনি এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি, যা তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।