রাশিয়াকে সাহায্য করার জন্য উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করার পর বুধবার সিউলের একজন আইনপ্রণেতা জানান, রাশিয়ার পক্ষে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ৬০০ উত্তর কোরিয়ার সৈন্য নিহত ও আরো কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।
ফরাসি বার্তাসংস্থা এএফপির সূত্রে বাসস বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার ব্রিফিংয়ের পর সংসদের গোয়েন্দা কমিটির সদস্য লি সিওং-কুয়েন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার সৈন্য হতাহতের সংখ্যা প্রায় চার হাজার ৭০০, যাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জন নিহত হয়েছেন।’
উত্তর কোরিয়া সোমবার প্রথমবারের মতো রাশিয়ায় সেনা মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, পিয়ংইয়ংয়ের সৈন্যরা রাশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চল কুরস্কে ইউক্রেনীয় নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চল পুনরুদ্ধারে মস্কোকে সহায়তা করেছে।
উভয় দেশের আনুষ্ঠানিক নীরবতার কয়েক মাস পর মস্কো পৃথকভাবে উত্তর কোরিয়ার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। যদিও সিউল ও ওয়াশিংটন সাহায্যের জন্য পিয়ংইয়ংকে এর আগেও সৈন্য ও অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ করেছে।
লি বলেন, এ বছর প্রায় দুই হাজার সৈন্যকে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। এখন তাদের পিয়ংইয়ং ও দেশের অন্যান্য স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
লি বলেন, ‘রাশিয়ার কুরস্ক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে দু’টি পর্যায়ে ১৮ হাজার সৈন্য মোতায়েন করে উত্তর কোরিয়া।’ তিনি আরো বলেন, মার্চ মাস থেকে এ অঞ্চলে সংঘর্ষ হ্রাস পেয়েছে।
লি বলেন, ছয় মাস ধরে লড়াইয়ের পর সিউলের জাতীয় গোয়েন্দা পরিষেবা অনুমান করেছে উত্তর কোরিয়ার বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া বারবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধে সহায়তা করার জন্য সেনা মোতায়েনের নিন্দা জানিয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্রসহ কন্টেইনার-বোঝাই অস্ত্র পাঠানোর জন্য উত্তর কোরিয়ার সমালোচনা করেছে।
সিউল দাবি করেছে, এর বিনিময়ে পারমাণবিক অস্ত্রধারী উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত সহায়তা পেয়েছে।