ইকুয়েডরের প্রধান তেল শোধনাগারে আগুনের ঘটনায় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি পেট্রোইকুয়াডর এ তথ্য জানিয়েছে।

কুইটো থেকে এএফপি জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় এসমেরালদাস প্রদেশে কলম্বিয়া সীমান্তবর্তী বিশাল ওই শোধনাগারে গত সোমবার আগুন লাগে। এতে প্ল্যান্টের দু’টি জ্বালানি তেলের ট্যাঙ্ক এবং একটি বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ শোধনাগারে প্রতিদিন এক লাখ ১০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করে পেট্রোল, ডিজেল, জেট ফুয়েল ও গৃহস্থালি গ্যাসে রূপান্তর করা হয়।

প্ল্যান্ট অপারেটর জানিয়েছে, আগুনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট, স্টিম এবং বিদ্যুৎসহায়ক ব্যবস্থাগুলো তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়। তবে অগ্নিকাণ্ডে কেউ হতাহত হয়নি বলে জানান তিনি।

আগুন লাগার সময় ট্যাংকে কত পরিমাণ তেল ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পেট্রোইকুয়াডর। সংস্থাটি শুধু জানিয়েছে, দু’টি ট্যাংকের কাছাকাছি আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল। প্রতিটি ট্যাংকে দুই হাজার ৫৪৪ ঘনমিটার পর্যন্ত জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বৃহস্পতিবার এসমেরালদাস শোধনাগারে ‘জরুরি পরিচালন অবস্থা’ ঘোষণা করা হয়েছে। যাতে দ্রুত মেরামত কাজ শেষ করে পুনরায় স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়।

পেট্রোইকুয়াডর জানিয়েছে, ৬০ দিনের এ জরুরি পদক্ষেপের আওতায় প্রশাসনিক জটিলতা ছাড়াই প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদক ইকুয়েডর তার রফতানি আয়ের জন্য মূলত তেলের ওপরই নির্ভরশীল। তবে পেট্রোইকুয়াডর এখনো জানায়নি দেশের বিতরণ কেন্দ্রে মজুত জ্বালানি কতদিন টিকবে।

ইকুয়াডরে আরো দু’টি শোধনাগার রয়েছে, যেগুলোর পরিশোধন ক্ষমতা যথাক্রমে দৈনিক ৪৫ হাজার ও ২০ হাজার ব্যারেল।

সূত্র : বাসস