দক্ষিণ এশিয়ায় কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি এই ঘোষণা দিয়েছে কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিভাগ। গত দুই বছরে দক্ষিণ এশিয়ায় অবস্থিত কেমব্রিজ স্কুলগুলোর মধ্যে ১২ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ, ৭৫ শতাংশেরও বেশি নিয়ে প্রথমে ভারত।

বাংলাদেশে কেমব্রিজ ইন্টারন্যাশনালের শিক্ষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে এবং বেসরকারি ও আধা-শহুরে এলাকার বিভিন্ন স্কুলের পরিচালনা পরিষদ ও অভিভাবকদের মানসম্পন্ন ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তা প্রমাণ করে।

এর মূলত তিনটি কারণ লক্ষ্য করা যায়; প্রথমত, ৩ থেকে ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য কেমব্রিজের আন্তর্জাতিক পদ্ধতির শিক্ষাব্যবস্থা, যা স্থানীয় সংস্কৃতি ও প্রেক্ষাপটের সাথেও স্বামঞ্জস্যপূর্ণ। এই শিক্ষা পদ্ধতি ছাত্র-ছাত্রীদের দেশীয় শিক্ষায় বৈশ্বিক ছোঁয়া এনে দেয়।

দ্বিতীয়ত, কেমব্রিজ অনুসন্ধানভিত্তিক শিক্ষায় বিশেষ উৎসাহ দেয় ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ, প্রতিক্রিয়াশীলতা, আত্মপর্যালোচনা, শ্রদ্ধা এবং উদ্ভাবনী মনোভাব গড়ে তোলে।

সবশেষ, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নেও মানসম্মত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।

দক্ষিণ এশিয়ায় কেমব্রিজের দ্রুত বিস্তার মূলত আন্তর্জাতিক শিক্ষার প্রতি সবার ঝোঁক বৃদ্ধিকে ইঙ্গিত করে। বিগত যেকোনো বছরের তুলনায় ২০২৪ সালে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী কেমব্রিজের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। স্থানীয় স্কুল কমিউনিটির অনুরোধে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে কেমব্রিজের তৃতীয় চেকপয়েন্ট পরীক্ষার সময়সূচি চালু হবে, যাতে করে স্কুলগুলো তাদের একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পরীক্ষা নিতে পারে।

কেমব্রিজের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বিনয় শর্মা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় ১ হাজার স্কুল চালু আমাদের দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দেয়, যা শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হতে উৎসাহিত করে। এই অঞ্চলে ইনোভেশন, ইনক্লুশন এবং সেরা মানের শিক্ষা প্রদান করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করতে নয়; বরং জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে এআই-এর মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত করতে চাই।’

বাংলাদেশে কেমব্রিজের কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা বলেন, ‘কেমব্রিজের সাথে যুক্ত হতে পেরে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক শিক্ষার চাহিদা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এই অগ্রগতি ধরে রাখতে আমরা বাংলাদেশে একটি নিজস্ব টিম প্রস্তুত করছি, যারা আরো বেশি শিক্ষার্থীকে কেমব্রিজের মানসম্মত ও ভবিষ্যতমুখী শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে কাজ করবে।’