‘আছিয়া’কে বোন সম্বোধন করে ছাত্রদলের নেতারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যারা আমাদের বোনকে ধর্ষণ করেছে, তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব।

আজ সোমবার হাইকোর্ট গেইটের সামনের সড়কে ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত দেশব্যাপী নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা, নিপীড়ন, ধর্ষণ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও বিচারহীনতার প্রতিবাদে মানববন্ধনে নেতারা একথা বলেন।

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, দিনের পর দিন নারীর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে আমরা গতানুগতিক ধারার বক্তব্য শুনতে পাচ্ছি। সরকারের স্বদিচ্ছার অভাব আমরা স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করছি।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনরা ধর্ষণের বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছে। তারা ক্লাস বর্জন করেছে। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আমরা তাদের সর্বাত্মক সমর্থন জানাচ্ছি। আমাদের বোন আছিয়ার ধর্ষকদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদল রাজপথে থাকবে। অতি দ্রুত তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ছাত্রদলের এই সভাপতি আরো বলেন, বিগত ১৫ বছরের সমাজ ব্যবস্থা যে পরিমাণে ধ্বংস হয়েছে, আমরা সেটির পরিবর্তন চাই। আমরা বিশ্বাস করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যদি আগামীতে কোনো সরকার গঠিত হয়, তাহলে সেই সরকার নারী নির্যাতন বন্ধ করবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যতদিন রয়েছেন, দয়া করে আজ থেকে আপনারা আরো বেশি সচেষ্ট হন। প্রতিটি ধর্ষণ, নিপীড়নের ঘটনার বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সুনিশ্চিত করেন। এছাড়াও অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে না পারলে আমরা আপনাদের ওপর আঙ্গুল তুলতে বাধ্য হবো।

ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আমাদের মনে হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্বল সরকার। এ অন্তর্বর্তী সরকারকে এ দেশের সব মানুষ সমর্থন দেয়ার পরেও তারা কিন্তু আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উন্নতি করতে পারেনি। আপনারা দেখেছেন মাগুরাতে আট বছরের শিশুকে কিভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু এ দেশের কিছু মানুষ নারীদের পোশাক নিয়ে বার বার কথা বলে। নারীদের পোশাক যদি সমস্যা হতো তাহলে কিভাবে আমার আট বছরের বোন ধর্ষণের শিকার হয়, ছাত্রদল প্রশ্ন রাখতে চায়। বাংলাদেশের গত ১৫ বছরে যে বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠেছে, সেজন্য গত সাত বা আট মাস ধরে নারীর প্রতি যে সহিংসতা যে নির্যাতন সেগুলো কিন্তু ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে ধর্ষণের শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় ধর্ষণের কার্যক্রম বেড়েই চলেছে। ছাত্রদল আহ্বান জানাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবশ্যই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপারে কঠোর করতে হবে।

মানববন্ধনে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।