আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সমাবেশ করবে বিএনপির সহযোগী সংগঠন শ্রমিক দল।

দুপুর ২টায় নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হবে।

শ্রমিক সমাবেশ হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবিতে দলীয় শক্তি প্রদর্শন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সমাবেশে লক্ষাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সমাবেত করার লক্ষ্য। শক্ত অবস্থান জানান দিয়েও করবে শো-ডাউন। সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি । কেন্দ্র থেকে নেতাকর্মীদের নানা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে ।

ইতোমধ্যে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে, মাইক টাঙ্গানো হয়েছে। ব্যানার ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসাবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়াও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলটির সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, টাঙ্গাইলসহ রাজধানীর আশপাশের জেলার নেতাকর্মীরাও অংশ নেবেন।

শ্রমিক দলের সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, এবার স্বৈরাচার মুক্ত পরিবেশে সমাবেশ ঘিরে শ্রমিকদের উদ্দীপনা ও আগ্রহ বেশি। সমাবেশের জন্য শ্রমিক দল ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। বিএনপিও সাপোর্ট দিচ্ছে। অনেক বড় সমাবেশ হবে।

এদিকে সমাবেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে শ্রমিক সমাজ অবহেলিত। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি, বাজারমূল্যের সাথে অসঙ্গতি, কম মজুরিতে শ্রমিক সমাজের এখন বেঁচে থাকাই কষ্টকর।

রিজভী জানান, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে শ্রমিক দলের ৭১ জন নেতাকর্মী ও ৩০ জন রিকশা শ্রমিক এবং অসংখ্য নাম না জানা শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শ্রমিক দল ১২টি দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে :

১) অবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা।

২) ফ্যাসিস্ট খুনি শেখ হাসিনার বিচার করা।

৩) সকল প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার সেন্টার করা।

৪) বন্ধ শিল্প চালু কর-নতুন শিল্প গড়ে তোলা।

৫) আউট সোর্সিং বন্ধ কর, স্থায়ী পদ সৃষ্টি করা।

৬) অবাধ ও গণতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা।

৭) নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

৮) শ্রমিক হত্যার বিচার এবং শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করা।

৯) জাতীয় নূন্যতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করা।

১০) বৈষম্যহীন জাতীয় পে-স্কেল ও মজুরি হার ঘোষণা করা।

১১) জরুরি পরিসেবা আইনসহ সকল কালাকানুন বাতিল করা।

১২) খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম কমানো।