‘পবিত্র রমজান মাসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ সংঘটিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কুরআন-সুন্নাহর শাসনের কোনো বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে ইসলামী ঐক্যজোটসহ সমমনা ইসলামী দলগুলো কাজ করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নেবে এবং ইসলামের পক্ষে একটি ভোটের বাক্স থাকবে,’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ঐক্যজোটের শীর্ষ নেতারা।

রোববার (৯ মার্চ) বিকেল ৫টায় লালবাগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় মিলনায়তনে ইসলামী ঐক্যজোটের উদ্যোগে ‘পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য ও করণীয় শীর্ষক’ আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে বক্তারা এসব কথা বলেন।

নেতারা আরো বলেন, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশকে যে ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে তা থেকে উত্তরণে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করতে যেমন রাষ্ট্র সংস্কার প্রয়োজন তেমনি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে জাতীয় নির্বাচনও প্রয়োজন। আমরা আশা করি, অন্তর্বর্তী সরকার অতি প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করবেন।’

তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতন ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।’

বক্তরা আরো বলেন, ‘বিগত ১৬ বছর আওয়ামী সরকার আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থী জনতার ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়ে ছিল। তারা নিরপরাধ মানুষকে গুম করে জঙ্গী সাজিয়ে মিডিয়া ট্রায়াল করত। হাসিনার আয়না ঘর ছিল ফেরাউনের জেলখানার সমতুল্য। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবে ছাত্র জনতার গণ অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ও তার সরকারের পতন ঘটেছে। বর্তমানে দেশ গঠনের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

‘রমজান মাস আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মসংযমের মাস। এ মাসে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে আমাদের আত্মশুদ্ধি অর্জন করতে হবে। গরীব, অসহায় ও পীড়িত মানুষের জন্য দানের হাতকে সম্প্রসারিত করতে হবে,’ বলেও জানান নেতারা।

এ সময় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাদিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাওলানা জসীম উদ্দীন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি মাওলানা সৈয়দ ইসহাক মো: আবুল খায়ের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের মজলিশে শূরা সদস্য মাওলানা আলী আজম, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা ফজলুর রহমান, মুফতী সামছুল আলম, মাওলান সাইফুল্লাহ হাবিবী, মুফতী মঞ্জুর মুজীব, মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ গাজী, প্রচার সচিব মাওলানা কাজী আজিজুল হক, মাওলানা আনছারুল হক ইমরান, মাওলানা ইউসুফ ভূইয়া, মাওলানা আব্দুল্লাহ ফরহাদ, মাওলানা আনোয়ারুল হক, মাওলানা আবুল হাশেম, খেলাফত মজলিস নেতা মাওলানা ফয়সাল আহমদ প্রমুখ।