বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেছেন, শ্রমজীবীরাই জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। জুলাই বিপ্লবে আমাদের শ্রমিক সমাজের অসামান্য অবদান রয়েছে। তাই অর্জিত বিপ্লবের চেতনা ধারণ করে দেশে অপশান-দুঃসাশনের অবসান ঘটিয়ে সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিক সমাজকে এক দফায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
শুক্রবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি মাওলানা মহিববুল্লাহর সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মোহাম্মদ তসলিম ও মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া। আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহ-সভাপতি মিজানুল হক ও গাজী মাহবুব আলম এবং গুলশান থানা জামায়াতের আমির মাহমুদুর রহমান আজাদ। এছাড়াও মহানগরীর সহ-সাধারণ সম্পাদক ও নির্বাহী পরিষদ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় সেলিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি শ্রমিক সমাজের নায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মূলত, শ্রমজীবীরাই জাতীয় উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাই শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও মালিকদের যুগপৎ ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ও সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সরকারকে আরো বাস্তবমুখী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার। আসন্ন ঈদুল ফিতরে শ্রমিকদের শতভাগ ঈদ বোনাস দিয়ে তাদেরকে পরিবারের সাথে সুন্দরভাবে ঈদ আনন্দে অংশীদার হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে। তিনি শ্রমিকদের নায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকার ও মালিক পক্ষকে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, হাদিসে রাসূল (সা.)-এ শ্রমিকদের আল্লাহর বন্ধু হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রমিকরা তাদের কর্মের পাশাপাশি আল্লাহর গোলামীতে নিজেদের নিয়োজিত করলে ধনীদের অনেক আগেই জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে। মূলত, আল্লাহর আইন ছাড়া পৃথিবীতে কখনোই শান্তি আসতে পারে না। দেশে আল্লাহর আইন ও সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে কোনো অপরাধ ও অশান্তি থাকবে না। তাই দেশের সব নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করতে মানুষের তৈরি আইন বাদ দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে গঠিত রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জনে মনোযোগ দিতে হবে।
তিনি বলেন, অপপ্রচার আছে, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দেশ থেকে অসৎ লোকদের বিতাড়িত করা হবে। কিন্তু তাদের কথা সঠিক নয় বরং আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের সব নাগরিককে আলোকিত মানুষে পরিণত করা হবে। তিনি সে আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় শ্রমিক সমাজকে ইসলামের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। প্রেস বিজ্ঞপ্তি