চলতি বছরের ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার সকালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ে ডেনমার্কভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালস-এর প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠককালে তিনি জানান, ডেনমার্কের সহযোগিতায় নির্মিতব্য এ টার্মিনালকে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন টার্মিনাল’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
মন্ত্রী বলেন, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। টার্মিনালের ক্রেনগুলো অফিস থেকে দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে, যা কার্যক্রমের দক্ষতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি করবে।
এছাড়া প্রকল্পে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণও নিশ্চিত করা হবে, যা বন্দর খাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক মানের এ টার্মিনাল নির্মাণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একইসাথে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ডেনমার্কের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ডেনমার্ক সরকার ও দেশটির বিনিয়োগকারীদের আরো সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান এবং বন্দর ও নৌ-পরিবহন খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
এপিএম টার্মিনালসের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাংলাদেশে বন্দর ও টার্মিনাল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার সুযোগ দেয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালসহ দেশের বন্দর খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে মতবিনিময় করেন।
বৈঠকে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস