নয়া দিগন্ত অনলাইন

জামায়াত আমিরের নেতৃত্বে বৈষম্যমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, ‘দেশে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে ৫ বছরের মধ্যেই দুর্নীতি, সন্ত্রাস, হত্যা, নৈরাজ্য ও ধর্ষণসহ সব অপরাধ মুক্ত করা সম্ভব। দেশে কোনো দারিদ্রতা, বেকারত্ব ও বস্তি থাকবে না। জাতির মুক্তি মিলবে।’

শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪ টার দিকে রাজধানীর গুলশানে দ্য ক্যাফে রিওতে বাংলাদেশ কালচারাল একাডেমি আয়োজিত কবি-সাহিত্যিক, বিট সাংবাদিক ও শুভাকাঙ্খীদের সম্মানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘ইসলাম একটি পরিপূর্ণ, অদ্বিতীয় ও নির্ভূল জীবন-বিধান হলেও অনেকেই পুরোপুরি অনুসরণ করে না। অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে দ্বীনের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হতে বলেছেন। আর আংশিক মানা না মানার চেয়ে খারাপ। আল্লাহ তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। আর যারা আল্লাহর দেয়া বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করে না তাদেরকে কালামে হাকিমের কোথাও কাফির, কোথাও ফাসিক, আবার কোথাও জালিম হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়েছে। এরা পার্লামেন্টে আল্লাহ ওয়ালা লোক নির্বাচিত হোক তা তারা চায় না।’

তিনি বলেন, ‘রমযান তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাস; তাই রমযানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা তাক্বওয়ার গুণবালী অর্জন করলে শিশু আছিয়াদের দুঃখজনকভাবে সম্ভ্রম হারাতে বা জীবন দিতে হবে না।’

বাংলাদেশ কালচারাল একডেমির সভাপতি আবেদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একাডেমির সেক্রেটারি ইব্রাহীম বাহারী।

এতে আরো বক্তব্য রাখেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আল মুজাহিদী, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক শামসুল আলম, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, সাপ্তাহিক সোনার বাংলার সহকারী সম্পাদক ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, এনএনবিডি২৪.কমের সিইও মু.আতাউর রহমান সরকার, সাহিত্য সংস্কৃতি কেন্দ্রের সভাপতি মাহবুব মুকুল, বাচীক শিল্পী বায়েজীদ মাহমুদ, কবি হাসান আলীম ও জাকির আবু জাফর প্রমুখ।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এ সদস্য আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের শিল্প, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন নোংরামিতে ভরে গেছে। এক শ্রেণির কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতি কর্মীর রগরগে যৌনাচার, কামাচার ও নারী দেহের আপত্তিকর উপস্থাপন ছাড়া তাদের কর্মে গতি আনতে পারে না। অথচ সৃজনশীল, ইতিবাচক ও শালীনতা বজায় রেখেই যে শিল্প ও সাহিত্য চর্চা করা সম্ভব তা আমাদের তাকওয়াবান কবি-সাহিত্যিকরা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘যারা বিপথগামী তাদেরকে অবশ্যই ইতিবাচক ও আদর্শিক পথে ফেরাতে হবে। মূলত আমাদের দেশে অশ্লীলতাকে ব্যবসায়িক পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনের বেশ কিছু ব্যক্তি বিপথগামী। তারা অশ্লীলতা, বেহায়াপনা উৎসাহিত করে মানুষের ঈমান-আকিদা নষ্ট করছেন। নারীদেহকে বানানো হয়েছে পণ্য। কিন্তু আমরা এক্ষেত্রে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছি।’

তিনি অন্যায়ের প্রতিরোধ সম্পর্কে হাদিসে রাসূলের (সা.) বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘কোথাও অন্যায় হলে তা শক্তি প্রয়োগ করে প্রতিহত করতে হবে। সে শক্তি না থাকলে মুখে প্রতিবাদ করে তা প্রতিহত করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সে সক্ষমতা না থাকলে মনে মনে ঘৃণা করতে হবে। আর তা হচ্ছে ঈমানের সর্বনিম্ন পর্যায়। তাই দেশের সাহিত্য অঙ্গনকে কলুষমুক্ত করার জন্য তাক্বওয়াবান কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করতে হবে। অন্যথায় জাতিকে তাক্বওয়াবান বানানো যাবে না।’