মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, যারা জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন তারা অধিকাংশই নিজেদের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তা করেন। কিন্তু মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় প্রাণীর স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ, তা অধিকাংশ মানুষ ভুলে যায়। ওয়ান হেলথের মধ্যে মানুষ ও প্রাণী স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেয়া হলেও পরিবেশের স্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দেয়া হয় না। কিন্তু মনে রাখতে হবে পরিবেশের মধ্যে মানুষ আর প্রাণী আছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাভারে অবস্থিত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরিতে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, খাদ্য উৎপাদনের বাড়ানোর কথা বলে থাকি কিন্তু খাদ্য নিরাপদ কীনা তা আমাদের দেখতে হবে। খাদ্য যদি নিরাপদভাবে উৎপাদিত না হয় তাহলে এ ধরনের খাদ্য দিয়ে আমাদের কোনো লাভ নেই। শুধু বিল্ডিং থাকলে হবে না, কাজ করতে হবে মানুষ দিয়ে। তাদের আবার দক্ষ হতে হবে। গবেষণা পর্যায়ে যেমন বিজ্ঞানী লাগবে তেমনি মাঠ পর্যায়ে কর্মী লাগবে।

উপদেষ্টা বলেন, প্রাইভেট সেক্টর সরকারের সাথে মিলেমিশে কাজ করলে জনগণের নিকট আরো বেশি মাত্রায় পৌঁছানো যাবে। প্রাইভেট সেক্টরকে প্রোফিট প্রাধান্য না দিয়ে সেবাকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরে উপদেষ্টা বিসিএস লাইভস্টক অ্যাকাডেমির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ সাফওয়ান সদ্যের নামে মূল ফটকের নামকরণ উদ্বোধন করেন।

এসময় শহীদ সাফওয়ান সদ্যের বাবা ডা: আখতারুজ্জামান লিটন, মাতা খাদিজা বিন জুবায়েদ শিল্পী, বোন আতকিয়া জামান তিশমা, বিসিএস লাইভস্টক অ্যাকাডেমির কর্মকর্তা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আসন্ন রমজান মাসে জনসাধারণ যেন সহজেই প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে পারেন সেজন্য শুক্রবার থেকে রাজধানী ঢাকার ২৫টি পয়েন্টসহ সারাদেশে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সুলভ মূল্যে দুধ, ডিম ও গোশত বিক্রির ব্যবস্থা করবে।

তিনি আরো বলেন, পণ্য সরবরাহ করে বাজারে যে কৃত্রিম উচ্চমূল্য রাখা হয় তার চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি সম্ভব তা প্রমাণ করতেই এমন উদ্যোগ।

উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ সার্ভিস জোরদারের লক্ষ্যে সরকারি অর্থে আন্তর্জাতিক মানের এই ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য নিরাপদ গোশত, দুধ ও ডিম উৎপাদন নিশ্চিতে সঠিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালন, সংক্রমণ প্রতিরোধ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা নিশ্চিত করা।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ( এলআরআই)-এর আয়োজনে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো: আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক ডা: মো: বয়জার রহমান, এলআরআই-এর পরিচালক ড. মো: মোস্তফা কামাল, প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও এলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।