নয়া দিগন্ত অনলাইন
ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করে নির্বাচন দিতে হবে মন্তব্য করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘ভোট দেয়ার জন্য যতটা ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার পরিবেশ দরকার তা নিশ্চিত করে নির্বাচন দিতে হবে। তা না হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে না। ক্ষমতা লোভী দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আর বিদেশে অর্থ পাচারকারীর দলেরা নির্বাচনে ভোট ডাকাতি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ৫ আগস্টের পর থেকে জনগণ সেটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেখছে এবং উপলব্ধি করেছে। এদের কাছে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়। এরা যুব সমাজকে সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজির কাজে লাগায়।’
তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী যুব সমাজকে যোগ্য, দক্ষ ও আদর্শবান করে গড়ে তোলার কাজ করছে। আধুনিক, মানবিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করছে। কারণ কোরআনের শাসনব্যবস্থা ছাড়া দুর্নীতি মুক্ত দেশ গঠন করা যাবে না। নতুন বাংলাদেশ দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, দখলবাজ মুক্ত করতে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে তিনি সকল দলমত, ধর্ম-বর্ণ, জাতি-গোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।’
এ সময় তিনি উপস্থিত যুব সমাজকে জুলাই-আগস্টের স্পিড ধরে রেখে নতুন বাংলাদেশ বিনিমার্ণে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের আয়োজনে সিয়ামের চেতনায় যুব সমাজ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্পদের অভাব নাই। অভাব হচ্ছে সৎ, যোগ্য, দক্ষ, নৈতিকতা সম্পন্ন আদর্শবান নেতৃত্বের। অযোগ্য, অদক্ষ, অসৎ আর নৈতিকতাহীন লোকদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাওয়ার ফলে তারা যে যখন ক্ষমতায় বসেছে, সে তখন দুর্নীতি, লুটপাট, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজের মদদদাতা এবং দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করার কাজ করেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অপশাসনামলে দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনের কর্মকর্তা -কর্মচারীরাও শত কোটি, হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। সেনাবাহিনীর জেনারেল জিয়ার বাসায় অভিযান চালিয়ে ৯৩৫ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাড়িতেই যদি ৯৩৫ কোটি টাকা থাকে, তাহলে কত হাজার কোটি টাকা এই জিয়া দুর্নীতি করেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।’
তিনি বলেন, ‘জিয়ার মতো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাসায় অভিযান চালালে হাজার-হাজার কোটি টাকা পাওয়া যাবে। অন্তর্বর্তী সরকারের নৈতিক দায়িত্ব তালিকা করে এদের বাসায় অভিযান চালিয়ে দুর্নীতি করে জমানো টাকা গুলো উদ্ধার করা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও যুব বিভাগের সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘রমাদান আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তার বান্দাকে মূলত জান্নাতে নিতে চান। সেজন্য রমাদান মাসকে সুযোগ হিসেবে দেয়া হয়েছে। আত্মপরিশুদ্ধর জন্য রমাদান। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারার প্রশিক্ষণ হচ্ছে রমাদান। রমাদানের মাধ্যমে পাশবিকতা দমন এবং মানবিকতার উত্থান হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাশবিকতার দমন করে মানবিক বাংলাদেশ গঠন করতে চায়। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ফ্যাসিস্টের দোসরদের অপসারণ করে মানবিক এবং দেশপ্রেমিক ক্রীড়াবিদদের দায়িত্ব দিতে হবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক কায়সার হামিদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন। এই সংগঠনের নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখা যায়। তিনি মা-বাবাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সন্তানকে ইসলামী শিক্ষা দেয়ার মাধ্যমে আদর্শিক মানুষ হিসেবে গড়তে হবে।’
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সদস্য সচিব ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এনায়েত উল্লাহ ইউসুফজী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম কামাল উদ্দিন এবং ডা: মোয়াজ্জেম হোসেন, কারাতে ফেডারেশনের সিনিয়র সহ-সভাপতি একরামুল হক, বাংলাদেশ টেনিস ফেডারেশনের ট্রেজারার ইব্রাহিম হোসেন প্রমুখ।