আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা বৈধ ঘোষণা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী এই ঘোষণা দেন। এ সময় ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থকদের প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় কেউ কেউ পেশীশক্তি খাটানোর চেষ্টা করছে।
তিনি পেশীশক্তি প্রয়োগের পরিবর্তে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য রক্ষায় সকলকে আইনের প্রতি শ্রদ্বাশীল হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি প্রশাসনের উদ্দেশে বলেন, এখনো অনেক ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়নি।
সব দল ও প্রার্থীর জন্য সর্বস্তরে সমান সুযোগ-সুবিধা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে তিনি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, কেন্দ্র ভিত্তিক সিসি টিভি স্থাপনের কথা থাকলেও এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি। তবে তিনি আশা করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে কেন্দ্র ভিত্তিক সিসি টিভি স্থাপন করা হবে। একইসাথে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং ভোট দিতে পারলেও ভোট রক্ষা করতে পারবেন না বলে যারা ভোটাদের হুমকি দিচ্ছেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশাসন পক্ষপাতিত্বের ভূমিকা রাখলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। এ সময় তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর মানুষের বিপদে-আপদে জামায়াতে ইসলামী মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে।
নিজের ওপর আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতনের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, তাকে ৬৭ দিন রিমান্ডের নামে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। র্যাব তার গর্ভবতী স্ত্রীকে তুলে নিয়ে মারধর করে গর্ভে থাকা সন্তানকেও হত্যা করেছে! তার পুরো পরিবার আওয়ামী লীগের জুলুমের শিকার হয়েছে। শত জুলুম নির্যাতন করেও তাকে এবং তার পরিবারকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি, যাবে না।