আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’র আওতায় ১৬টি সংসদীয় আসনে ২৫টি উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপকূলীয় এলাকা কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নৌ কন্টিনজেন্টের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিকে বলা হয়, কুতুবদিয়া ও সন্দ্বীপ পরিদর্শনকালে নৌবাহিনী প্রধান অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন অফিসার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব, কোস্ট গার্ড, আনসার এবং নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হয়। সাধারণ জনগণ যেন কোনো প্রকার ভয়ভীতি ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনীসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। ভোটকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন কারার নির্দেশনা দেন নৌ বাহিনী প্রধান। এছাড়াও, পরিদর্শনকালে তিনি নৌবাহিনী কন্টিনজেন্টর সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
আইএসপিআর জানায়, উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য ভোলা, হাতিয়া, সন্দ্বীপ, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন এলাকায় নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক বোটের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে স্বার্থান্বেষী মহলের যে কোনো অপতৎপরতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যক ড্রোন এবং বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের পাশাপাশি নৌবাহিনী নিয়মিত টহল ও ফুট পেট্রোলিং পরিচালনা করছে। উদ্ভূত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর জাহাজ, হেলিকপ্টার, কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং সোয়াডস্ টিম সর্বদা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়াও, আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে নৌবাহিনী। দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে ভোটারগণের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বদ্ধপরিকর।