আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা, পশুর হাটের নিরাপত্তা, চাঁদাবাজি প্রতিরোধ এবং নির্বিঘ্ন যান চলাচল নিশ্চিত করতে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট, শপিংমলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে ঘিরে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।

এছাড়া সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘জননিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে আমরা বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

মন্ত্রী জানান, পুলিশ সদর দফতরে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল চালু করা হয়েছে। এটি ঈদের আগে সাত দিন এবং ঈদের পর সাত দিন কার্যকর থাকবে। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিসি ও অন্যান্য সংস্থার জরুরি হটলাইন সক্রিয় রাখা হবে।

তিনি আরো জানান, পশুর হাটে নিরাপত্তা জোরদার, জাল টাকা প্রতিরোধ এবং অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতেও বিশেষ নজরদারি থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের নাশকতা, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’

বৈঠকে পুলিশ সদর দফতর, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড, আনসার-ভিডিপি, গোয়েন্দা সংস্থা, হাইওয়ে পুলিশ, মহানগর পুলিশ ও জেলা প্রশাসনকে বিশেষ দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

র‌্যাব জানিয়েছে, ঈদ সামনে রেখে রাজধানীসহ সারাদেশে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও সাইবার মনিটরিং টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো: মোসলেহ উদ্দিন আহমদ জানান, পশুর হাটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা চৌকি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে জাল নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে ডিএমপির পক্ষ থেকেও ১৫০টি জাল নোট শনাক্তকরণ যন্ত্র সরবরাহ করা হবে।

পুলিশ সদর দফতর জানিয়েছে, পশু পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে তাৎক্ষণিক অভিযোগ গ্রহণের জন্য বিশেষ হটলাইন চালু করা হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে চাঁদাবাজি, মাদক পাচার, সশস্ত্র গ্যাং ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হচ্ছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে মোবাইল টিম, চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

নদীপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌ-পুলিশ অতিরিক্ত টহল দেবে। একইসাথে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ত্রুটিপূর্ণ লঞ্চ চলাচল বন্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিউ মার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা এবং গাজীপুর চৌরাস্তায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সহায়তা করবে। সূত্র : বাসস