সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তরুণদের স্বীকৃতি দিতে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সেলেন্স ইন ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্কের মনোনয়ন গ্রহণ শুরু করেছে।
কমনওয়েলথ ইয়ুথ প্রোগ্রামের আওতায় দেয়া এই পুরস্কার, যা জনপ্রিয়ভাবে কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস (সিওয়াইএ) নামে পরিচিত। ৫৬টি সদস্য দেশের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনকারী ১৫–২৯ বছর বয়সী তরুণদের এই পুরস্কারে সম্মানিত করে। যারা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন তাদের এই পুরস্কার দেয়া হয়।
প্রতিবছর একজন সেরা বিজয়ীকে কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করা হয় এবং আঞ্চলিক বিজয়ী নির্বাচিত হন আফ্রিকা, এশিয়া, ক্যারিবিয়ান, ইউরোপ ও কানাডা এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে।
এ বছর বাংলাদেশ থেকে মুরাদ আনসারি কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ডস এশিয়া এশিয়া অঞ্চলের বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সারা এশিয়ার সব আবেদনকারীদের হারিয়ে বিজয়ী হন এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার পুরস্কার জিতে নেন। এই অর্জন বাংলাদেশের তরুণ নেতৃত্বকে বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরেছে। এবার আরো বেশি তরুণ সামনে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিকতা ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ ডে-তে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েটের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার হবে, যেখানে আগের সব বিজয়ীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও জটিল সমস্যার সমাধানে উদ্ভাবনী কাজ নিয়ে আলোচনা করবেন।
কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে বলেন, ‘আমাদের ৫৬টি সদস্য দেশে তরুণরা অনুমতির অপেক্ষা করছে না। তারা টেকসই খামার গড়ছে, জলবায়ু অ্যাপ চালু করছে, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিচ্ছে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। তারাই পরিবর্তনের রূপকার, আর আমাদের দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো।’
২০২৫ সালের কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার ও লাইটএড–এর সিইও স্ট্যানলি আনিগবোগু পুরস্কারের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘পুরস্কার জেতা অবিশ্বাস্য লেগেছিল, নাম ঘোষণার সময় আমি বিশ্বাসই করতে পারিনি। এই অভিজ্ঞতা অসাধারণ, আমি শুধু অর্থনৈতিক সহায়তা পাইনি, বরং কাজ তুলে ধরার বহু সুযোগও পেয়েছি। নতুন সহযোগিতা ও বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। আমি সবাইকে এতে অংশ নিতে উৎসাহিত করি এখন।’
২০২৬ সালের পুরস্কার প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথ অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে, যা তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে নিতে অংশীদারিত্ব আরো শক্তিশালী করবে। কমনওয়েলথের সামাজিক নীতি উন্নয়ন বিভাগের প্রধান লেন রবিনসন বলেন, ‘এ বছর সাফল্যের গল্প তুলে ধরার বিশেষ সুযোগ। উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক, পরিবেশকর্মী, নারী অধিকারকর্মী, স্বাস্থ্য আন্দোলনকারী এবং রাজনৈতিক কর্মী—পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এ রকম বহুমুখী তরুণদের আমরা পেয়েছি। এই পুরস্কার তাদের উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক মঞ্চে পৌঁছে দেয় এবং প্রকল্প আরো বড় করতে অর্থ সহায়তা করে।’
যে পুরস্কার পান বিজয়ীরা
সাধারণত কমনওয়েলথ ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিজয়ীরা সম্মাননার পাশাপাশি আর্থিক পুরস্কারও পান। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত প্রতিযোগী পান ১০০০ পাউন্ড। তার সাথে প্রতিটি আঞ্চলিক বিজয়ীরা পান অতিরিক্ত আরো দুই হাজার পাউন্ড। আর যদি কমনওয়েলথ ইয়াং পারসন অব দ্য ইয়ার হয়, তবে তিনি পান আরো ২০০০ পাউন্ডসহ মোট ৫০০০ পাউন্ড।
বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ২০২৬ সালের মার্চে কমনওয়েলথ সপ্তাহে। পুরস্কারের জন্য আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত। আবেদন ও মনোনয়ন অনলাইনে করা যাবে এই ওয়েবসাইটে- https://commonwealth-youthexcellence.awardsplatform.com/