পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের ৭৪টি কারাগারে প্রায় ৮২ হাজার বন্দি উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি উদযাপন করছেন। ঈদের জামাত, বিশেষ খাবার ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বন্দিদের জন্য নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।
কারা সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টায় বিভিন্ন কারাগারে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। জামাত শেষে বন্দিরা একে অপরের সাথে কুশল বিনিময় করেন। পরে তাদের দেয়া হয় পায়েস ও মুড়ি। দুপুরে বন্দিদের জন্য পরিবেশন করা হচ্ছে পোলাও, রোস্ট, গরু ও খাসির গোশত, চমচম, কোমল পানীয়, পান-সুপারি ও সালাদ। রাতের খাবারে রাখা হয়েছে সাদা ভাত, রুই মাছ ভাজা ও আলুর দম।
কারা অধিদফতর জানিয়েছে, বন্দিদের পরিবারের জন্যও বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রি জুস কর্নার, শিশুদের জন্য চকলেট ও চিপস বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দিদের পরিবারের সদস্যদের সাথে অতিরিক্ত সাক্ষাৎ ও কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ বিশেষ কারাগারে থাকা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী মামলার ১৩০ জন বিশেষ বন্দিও একই সুবিধা পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, এমপি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো নতুন পোশাক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তারা গ্রহণ করেছেন। বেশির ভাগ বন্দি বয়স্ক ও অসুস্থ হওয়ায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করছেন, কারাগারেও তাদের জন্য ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে।
গত রোজার ঈদের মতো এবারো মাঠে জামাতে অংশ নেন রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন। বাড়তি নিরাপত্তার মধ্যে তিনি অন্য বন্দিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
কারা অধিদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন ও মিডিয়া) মো: জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া আয়োজন এবং পরিবারের সাথে অতিরিক্ত সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে।
সকাল ১০টায় বিভিন্ন কারাগারে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিনে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ এবং তৃতীয় দিনে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আগামী তিন দিনের মধ্যে যেকোনো একদিন বন্দিরা পরিবারের দেয়া খাবার গ্রহণের সুযোগ পাবেন। একইভাবে একদিন আনডিউ সাক্ষাৎ এবং সর্বোচ্চ পাঁচ মিনিট আনডিউ কথা বলার সুযোগও দেয়া হবে।