পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে দুই সিটি করপোরেশনে প্রায় ২৯ হাজার ৫০০ লোকবল মাঠে কাজ করছে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। নগরবাসীর সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে বিশেষ হটলাইন। বর্জ্য সংরক্ষণ ও অপসারণে প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার প্লাস্টিক, পলিব্যাগ ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে এবার প্রায় ৭ লাখ পশু কোরবানি হতে পারে, যেখান থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টন বর্জ্য সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুস সালাম জানিয়েছেন, ঈদের দিনের বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে মূল কার্যক্রম শুরু হয়ে রাতের মধ্যেই প্রথম দিনের বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, তিন দিনে মোট ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনে ১৫ হাজার ৯৩৫ টন, দ্বিতীয় দিনে ১১ হাজার ৭৭৬ টন এবং তৃতীয় দিনে ৬ হাজার ২৩১ টন বর্জ্য অপসারণ করা হবে। পশুর হাটের বাঁশ, আউড় ও অন্যান্য ময়লা ধাপে ধাপে পরিষ্কার করা হবে। এ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি জীবাণুনাশক হিসেবে ব্লিচিং পাউডার, স্যাভলন ও বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হবে।
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো: শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, উত্তর সিটির বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে প্রতিটি ওয়ার্ডে মাইকিং করা হয়েছে এবং মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে মুসল্লিদের পরিচ্ছন্নতায় উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, প্রায় ১৬ হাজার লোকবল মাঠে রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিজস্ব পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বর্জ্য সংগ্রহকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক। বর্জ্য অপসারণে ব্যবহৃত হচ্ছে ৭৫২টি যান ও যন্ত্রপাতি। পাশাপাশি ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ ও ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার বিতরণ করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নগরবাসীর সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রাজধানীকে বর্জ্যমুক্ত করা সম্ভব হবে। সূত্র : বাসস