চট্টগ্রামে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে প্রায় ৭৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ প্রায় ১৮ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি লুটের ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো: আবু ইউসুফ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতার মো: সাজু মিয়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুট হওয়া OnePlus 10R মোবাইল ফোনটি মীরসরাইয়ের গোভনীয়া এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনার শিকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলক দাশ স্বর্ণালংকার ও নগদ ১৭ লাখ ৯০ হাজার ৫২০ টাকা নিয়ে নিউমার্কেট এলাকায় যাওয়ার পথে কে.সি. দে রোডের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আন্ডারগ্রাউন্ড এলাকায় পৌঁছান। এ সময় ডিবি পুলিশের পোশাক পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি তার পথরোধ করে।

তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে পুলক দাশকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মারধর করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেয়। পরে তার সাথে থাকা প্রায় ৭৭ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে সীতাকুণ্ডের বড় দারোগারহাট এলাকায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৮ অক্টোবর পুলক দাশ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলাটির নম্বর-১০। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩৪১/১৭০/৩২৩/৩৬৫/৩৮৬/৩৪ ধারায় করা হয়।

পরে বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর এসআই (নিঃ) আব্দুর রশিদ।

মামলার তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের বিভিন্ন ইউনিটে সংঘটিত একই ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেন। এ সময় কুমিল্লায় র‍্যাব পরিচয়ে একই কৌশলে ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়। সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও তদন্তের ধারাবাহিকতায় মামলার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ ঢাকার গোলাপবাগ এলাকা থেকে মো: সাজু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার সাজু মিয়া পেশায় একজন উবারচালক। সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের সদস্যরা র‍্যাব পরিচয়ে তার উবারে যাতায়াতের সূত্রে তাকে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করে। ঘটনার দিন ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ রাতে সাজুসহ চক্রের অন্যান্য সদস্যরা ডিবি পুলিশ পরিচয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী পুলক দাশকে অপহরণ করেন।

তারা তার কাছ থেকে প্রায় ৭৭ ভরি ১৫ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি লুট করে তাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামি সাজু মিয়া ঘটনার সাথে আরো পাঁচ থেকে ছয়জনের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন।

মামলার ঘটনায় জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া অন্যান্য মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।