স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, ‘ভারতীয় মিডিয়া ওয়ার্ল্ডের ভিতরে মিথ্যা বলার জন্য চ্যাম্পিয়ন।’

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সাজেক পরিদর্শন শেষে রাঙ্গামাটি বিজিবি সেক্টরে এক মতবিনিময় সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

ভারতীয় মিডিয়া মিথ্যা সংবাদ দিয়ে গুজব রটিয়ে দিচ্ছে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ওদের কয়েকটি মিডিয়া আছে যাদের কাজই হচ্ছে গুজব রটানো।’

এসময় তিনি প্রকৃত সত্য তথ্য পরিবেশন করে ভারতীয় মিডিয়ার সৃষ্ট মিথ্যা গুজবকে প্রতিরোধ করতে দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ।

রাঙ্গামাটি বিজিবির সেক্টর হেডকোয়ার্টারে প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পার্বত্য এলাকায় বড় সমস্যা চাঁদাবাজী আর দুর্নীতি। পাহাড়ে যত সহিংসতা হয় তার মূলে চাঁদাবাজী। আর দুর্নীতির কারণে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ জনগণ উন্নয়নের সুফল পায় না। তাই চাঁদাবাজী ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। তা না হলে কোনো দিনও পাহাড়ে সমস্যার সমাধান হবে না।

এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রাঙ্গামাটির বাঘাইহাট ব্যাটালিয়ন ৫৪ বিজিবির এলাকা এবং বিজিবির সাজেক বিওপি পরিদর্শন করেন।

সাজেক পরিদর্শনের সময় সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে আগুন নির্বাপনের গুরুত্ব বিবেচনায় সাজেকে অস্থায়ীভাবে ফায়ার সার্ভিসের একটি গাড়ি নিয়োজিত রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালককে তিনি নির্দেশনা দেন।

সাজেক পরিদর্শন ও রাঙ্গামাটির সভায় অন্যদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সু-প্রদীপ চাকমা, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, বিজিবির সদর দফতরের অতিরিক্ত মহা-পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: সোহরাব হোসেন ভূঁইয়া, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক শামস আরমান, পিলখানা অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ব্যুরো চীফ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: ইয়াছির জাহান হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের যুগ্ম সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, উপ মহাপরিচালক (পূর্ত) কর্নেল সোহেল আহমেদ, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, জেলা পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তাসহ সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের চোরচালান বন্ধে পার্বত্য এলাকায় বিজিবির ক্যাম্প বৃদ্ধি করা হচ্ছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট উপদেষ্টা বলেন, ‘পাহাড়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের বেশীরভাগই শহর কেন্দ্রীক। সরকারের উন্নয়নের কার্যক্রম পাহাড়ের প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি উন্নয়নের সুফল যেন সাধারণ জনগণ ভোগ করতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।