আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলা বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আজ বুধবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলা বাতিল প্রশ্নে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই রায় দেন।

আদালতে শহিদুল আলমের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার সারাহ হোসেন ও আব্দুল্লাহ আল নোমান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় শহিদুল আলমের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ৬ আগস্ট রমনা থানায় মামলাটি হয়। ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ৬ আগস্ট পুলিশ তাকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখায়। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগ তুলে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ওই মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। মামলায় ১০৭ দিন কারাভোগের পর শহিদুল আলম একই বছরের ২০ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান।

২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়। এ অবস্থায় ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে থাকা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় ওই মামলার তদন্ত কার্যক্রমের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৯ সালের ৩ মার্চ রিট করেন শহিদুল আলম। সে রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট একই বছরের ১৫ মার্চ রুল দিয়ে তদন্ত কার্যক্রম অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য স্থগিত করেন। ২০২১ সালের ১৩ ডিসেম্বর হাইকোর্ট শহিদুল আলমের করা রিট খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেন। তবে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন তিনি। সে লিভ টু আপিল খারিজ করে ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এ অবস্থায় এফআইআর ও মামলার তদন্ত কার্যক্রম বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। সে আবেদনের শুনানি শেষে মামলার তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করে মামলা বাতিল প্রশ্নে রুল জারি করেন বিচারপতি ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো: রিয়াজ উদ্দিন খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ।

সূত্র : বাসস