চিকিৎসক, চিকিৎসা ও ওষুধ কোম্পানি নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের বক্তব্যে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো অব্যাহত রয়েছে। চিকিৎসকদের বিভিন্ন সংগঠন ও চিকিৎসকরা ব্যক্তিগতভাবে বিবৃতি দিয়ে আইন উপদেষ্টার বক্তব্যকে অনভিপ্রেত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

সোমবার (১৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইউরোলজিকেল সার্জনসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শফিকুর রহমান ও সদস্য সচিব ডা: প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বিবৃতিতে চিকিৎসক সমাজকে ঘিরে সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যে গভীর ক্ষোভ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

নেতৃদ্বয় বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে চিকিৎসকদের নিয়ে কূরুচিপূর্ণ মন্তব্য শুধু তাদের পেশাগত নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগকে অবমাননা করেনি বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধাকে আঘাত করেছে।

নেতৃদ্বয় বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়েও দেশের প্রতিটি প্রান্তে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন। কোভিড মহামারী থেকে ধরে ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এই চিকিৎসক সমাজকে হেয় প্রতিপন্ন করা হাজারো সৎ ও নিবেদিত চিকিৎসকের আত্মত্যাগকে অপমানিত করা হয় এবং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা ও সুসম্পর্ককে দুর্বল করে। একই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধাবী তরুণদের চিকিৎসা পেশায় আসার আগ্রহকে নিরুৎসাহিত করে।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের চিকিৎসকদের সম্বন্ধে মন্তব্যে আরো নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জনসের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা: মওদুদুল হক ও সদস্য সচিব ডা: মুহাম্মদ নুরুজ্জামান খান, সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা: ফিরোজ কাদের ও সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা: রফিকুস সালেহীন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরামের আহবায়ক ডা: মির্জা মো: আসাদুজ্জামান (রতন) এবং সদস্য সচিব ডা: মোহাম্মদ আল আমিন।

রোববার এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল অনুষদের ডিন ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বাংলাদেশের চিকিৎসকদের নিয়ে সাধারণ রোগীদের রাগ-ক্ষোভের কারণ দূর করার জন্য যদি বলতেন, অনেক চিকিৎসক যথেষ্ট সময় নিয়ে রোগীদের কথা শুনেন না বলে অভিযোগ আছে, তা পরিহার করুন তবে আপত্তির কিছু ছিল না। তিনি যদি বলতেন, কিছু চিকিৎসক প্রয়োজনের অতিরিক্ত টেস্ট লেখেন বলে অভিযোগ আছে, সেটা পরিহার করতে হবে, তাতেও দোষের কিছু ছিল না। তিনি যদি বলতেন, কোনো কোনো চিকিৎসক ওষুধ কম্পানির থেকে বিশেষ সুবিধা পেয়ে নির্দিষ্ট কোম্পানির ওষুধ লেখেন এবং ক্ষেত্র বিশেষে ওষুধের কোয়ালিটির কথাও মাথায় রাখেন না। এটি তাদের করা উচিত নয়। তাতেও কারো রাগ করার কিছু ছিল না। চিকিৎসকদের নিজেদের স্বার্থেই এই কথাগুলো গ্রহণ করে নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে এবং রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা রোধ করতে এই সব বিষয়ে চিকিৎসকদের মনোযোগ দিতে হবে। এই সব বিষয়ে সরকারের নজরদারিও বাড়াতে হবে।’

ডা: সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ আরো বলেন, ‘ড. আসিফ নজরুলের শব্দ চয়ন ও প্রকাশ ভঙ্গি চিকিৎসকদের মনে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ড. আসিফ নজরুল আমার পছন্দের মানুষ। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার ভূমিকা ছিল অসাধারণ। তার লেখাও আমি পছন্দ করি। কিন্তু ক্ষমতার চেয়ার ইদানিং তার কথায় বিশেষ প্রভাব ফেলছে বলে আমার ধারণা। তিনি ভালো বক্তা, ভালো লেখক, আমার গুরুজন। তাকে শব্দচয়ন নিয়ে কিছু বলা আমার জন্য ধৃষ্টতার সামিল। তবুও অনুরোধ, ক্ষমতার উত্তাপ মাথায় উঠতে দেবেন না স্যার।’