আমাদের সব রোগের উৎপত্তি পাকস্থলি থেকে। কিন্তু বর্তমান আধুনিক লাইফস্টাইল পরিবর্তন করতে পারলে ওষুধ ছাড়াই সারাটা জীবন সুস্থতায় কাটিয়ে দেয়া যায়। আমাদের রয়েছে চর্বি ভীতি (ফ্যাট ফোবিয়া) কিন্তু চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য সব সময় ক্ষতিকর নয়। আমাদের শরীরে ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক আসে ফার্মে বেড়ে ওঠা প্রাণীর গোসত থেকে। এভাবে নির্বিচারে অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে গিয়ে মানুষের জন্য উপকারী গাট ব্যাকটিরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে শরীরে টক্সিসিটি (বিষক্রিয়া) বেড়ে যাচ্ছে। শরীরকে প্রাকৃতিক উপায়ে টক্সিসিটি মুক্ত করতে পারলেই নিরোগ থাকা যায়।

গতকাল রোববার ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটশনে ‘আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সুস্থতার মূলমন্ত্র’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সসের সেন্টার অব ইন্টিগ্রেটেড মেডিসিনের কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. মজিবুল হক উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তিনি এই বইয়ের লেখক।

তিনি দর্শকদের আরো বলেন, আধুনিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়ায় আমাদের ডায়েটে পরিবর্তন এসে গেছে, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বেশি বেশি ব্যবহারের কারণে আমরা রেডিয়েশনের শিকার হচ্ছি। এ কারণে মানসিক চাপে (মেন্টাল স্ট্রেস) ভুগছি, ঘুম হচ্ছে না। আর এর ফল স্বরূপ আমরা নানা ধরনের রোগে ভুগছি। সাদা চিনি, সাদা আটা, বেশি ক্যালরি গ্রহণ এবং ননস্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ড্রাগ (এনএসএআইডি) আমাদের শারীরিক ক্ষতি ডেকে আনছে। তাছাড়া পোল্ট্রিজাত প্রাণী, দুধ ও ডিম খাওয়ার কারণে আমাদের শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

অধ্যাপক মজিবুল হক বলেন, পোল্ট্রি খাবারে ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক আমাদের শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে কোনো গবেষণা না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে বছরে ২ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হয়ে থাকে লাইভস্টক ফার্মে।

হার্বার্ড ইউনিভার্সিটিতে ডক্টরাল ও পোষ্ট ডক্টরাল ডিগ্রিপ্রাপ্ত অধ্যাপক মজিবুল হক আরো বলেন, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা বা ফাস্টিংকে হালকাভাবে দেখবেন না, এর পেছনে রয়েছে বিষ্ময়রকর বিজ্ঞান। আমরা বলে থাকি ‘আমি বা ওমুক সময়মতো খাওয়া-দাওয়া করে না বা করি না’ বলে স্বাস্থ্য ভালো না, অসুস্থ হয়ে গেছি। কিন্তু এই ধারণা ভুল, টাইমলি না খাওয়াতেই কল্যাণ, এটাই ওষুধ। আপনি যখন খাচ্ছেন না, তখন আপনার শরীরের অন্য কিছু খাচ্ছে, আপনার শরীরে থাকা টক্সিসিটি পরিষ্কার হয়ে যায় তখন।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে- প্রক্রিয়াজাত খাবার (প্রসেসফুড) এবং কেমিক্যাল ইন্টারভেনশনের কারণে নানা রোগ হচ্ছে আমাদের।

তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, লাল গোসত (রেডমিট) থেকে প্রাপ্ত চর্বি স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী। লাল গোসতের মধ্যে ১১ ধরনের উপকারি অ্যামিনু এসিড এবং অনেক ধরনের খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটা খাওয়া উপকারী কিন্তু বেশি খাওয়া অবশ্যই ক্ষতিকর।

ড. মজিবুল হক বলেন, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফাস্টিং এবং ফ্যাট নিয়ে গবেষণা করার জন্য প্রচুর ফান্ড আসছে। কারণ এই ফাস্টিং এবং ফ্যাটকে ভবিষ্যতের মেডিসিন বলা হচ্ছে।

তিনি জানান, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলেও এর মধ্যে মাঝখানে লেবুর পানি, ইসবগুলের ভূষি, সবজু চা খেলে ফাস্টিং ভাঙ্গে না।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক মজিবুল হক এই ফাস্টিংকে রোজা বুঝাচ্ছেন না, দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকাকে বুঝাচ্ছেন। তবে ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী রোজা থাকলে আরো বেশি উপকার হয় বলে তিনি জানিয়েছেন।

অধ্যাপক মজিবুল হক দুই মাস পর পর আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে আসেন এবং তিনি রোগের মূল খুঁজে বের করে মানুষকে সুস্থ করে তোলেন বলে জানান সেমিনারে। রাজধানীর শুক্রবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার নামক চেম্বারে তিনি রাসায়নিক ওষুধ প্রয়োগ না করে চিকিৎসা করে থাকেন।