বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া, আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো আব্দুল কাইয়ুমকে গুচ্ছ ভর্তির অর্থ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. শুচিতা শরমিন।
গত ১৭ এপ্রিল বুধবার রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
এ দিকে গত ১৩ এপ্রিল অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দিনকে ফ্যাসিস্টের দোসর আখ্যা দিয়ে ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন তাকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেন।
অথচ জুলাই আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের পক্ষে নিপীড়ন বিরোধী শিক্ষক সমাজের যারা লিখিত স্টেটমেন্ট দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনের নাম প্রথমে ছিল। এ স্টেটমেন্ট প্রতিবেদকের রয়েছে।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো আব্দুল কাইয়ুম জুলাই আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতেন। এক জুম মিটিং তিনি বলেছিলেন, এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রের মানস কন্যাকে হঠানোর যে পরিকল্পনা হচ্ছে, সেই দাবিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং তারা যদি আমাদের শিক্ষার্থীও হয় তাদের ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন তিনি।
২০২৩ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনের আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর নৌকার প্রচারণায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ১২ নম্বর ব্যক্তি ছিলেন ড. আব্দুল কাইয়ুম।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক মাইনুল ইসলাম বলেন, স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের পতনের পরে ইউজিসির সিদ্ধান্তে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে আসেন ঢাবির আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক ড. শুচিতা শারমিন। এখন তাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসের স্বৈরাচারের সব দোসর একত্রিত হয়েছেন। এখন তারাই জুলাই আন্দোলনের সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা ‘নিপীড়ন বিরোধী’ শিক্ষকদের ট্যাগ দিয়ে কোনঠাসা করে ফেলেছে এবং শিক্ষার্থীদের পাশে থাকা শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আওয়ামী সিন্ডিকেটকে পুনরুদ্ধার করছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তারিক হোসাইন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘স্বৈরাচার ভিসি ও রেজিস্ট্রার বিশ্ববিদ্যালয়টাকে মগের মুল্লুক পাইছে, নিজেরা স্বৈরাচারের দালাল হয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলেন উদ্দেশ্যে একজন সম্মানিত শিক্ষককে যেভাবে অপমান করে বিবৃতি দিয়েছে সেটা কোনো সভ্য সমাজের কাজ না।’
তিনি আরো লিখেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সময়ে আমিসহ কিছু শিক্ষার্থী কারফিউ এর মধ্যেও আন্দোলনের স্বার্থে ভার্সিটি এরিয়া ত্যাগ না করে হল ছাড়ার পরেও মেসে অবস্থান করি, সেসময় আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা স্যার নিয়মিত খোঁজ নিয়েছেন, তার বাসায় থাকার জন্য বারবার বলেছেন, তিনি কখনোই পতিত সরকারের দোসর নয়, একজন নীতিবান মানুষ যিনি সবসময় সত্যের উপরে থাকেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উদ্দিন বলেন, জুলাই আন্দোলনে স্বৈরাচারের দোসরদের হঠানোর পর নতুন লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার যেসব ব্যবস্থা নেয়ার দরকার ছিল। যেটা না করে পুনরায় তাদের তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এটা দেখে সত্যিই দুঃখ লাগে।
তিনি আরো বলেন, যে লক্ষ্যে জুলাই অভ্যুথান হয়েছিল সেটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে মারা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম শত্রুমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসন করার কোনো সুযোগ নেই। ভিসি মহোদয় সেটা করছেন অবশ্যই ভুল করছেন।
জানতে চাইলে ট্রেজারার মামুন অর রশিদ গণমাধ্যমেকে বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন করছেন। ছাত্র আন্দোলনের সময় কাইউমের হুকুমে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হলো। অথচ সেই শিক্ষক কাইউমকে নানা দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। মুহসিন উদ্দীন বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক। তাঁকে অনৈতিকভাবে নির্বাহী আদেশে সিন্ডিকেট থেকে সরানোর সুযোগ নেই।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি শুচিতা শরমিন বলেন, 'অধ্যাপক মুহসিনকে সিন্ডিকেট থেকে বাদ দেয়ার কারণ তিনি সভা বয়কট করেছেন। এর আগে পদত্যাগও করেছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে ওই সময় নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।'