বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) স্বৈরাচারবিরোধীসহ যেকোনো আন্দোলনে নামলেই শিক্ষার্থীদের নামে মামলা ঠুকে দেন ভিসি অধ্যাপক ড. শূচিতা শরমিন। তার এমন কর্মকাণ্ডকে ফ্যাসিবাদ আখ্যা দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে এসব মামলা ও জিডি করে যৌক্তিক আন্দোলন দমানো যাবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে অবৈধ ও স্বৈরাচারের দোসর দাবি করে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। পরে রোববার (২৭ এপ্রিল) রেজিস্ট্রারকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কার্যালয় তালা দিয়ে আন্দোলন করে তারা।
এদিকে এ ঘটনায় বন্দর থানার ওসিকে ফোন করে ১০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন ভিসি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা সানোয়ার পারভেজ লিটন বাদি হয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
ভিসির এ নির্দেশে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থীরা। একইসাথে ভিসি মামলা করে আন্দোলনরতদের দমন-পীড়ন করে ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করছে বলে জানিয়েছেন তারা।
এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের পূনর্বাসনবিরোধী আন্দোলনে ভিসি ড. শূচিতা শরমিনের নির্দেশনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় অভিযোগ দায়ের করে ববি প্রশাসন।
এছাড়া ভিসিবিরোধী আন্দোলন হওয়ায় ভিত্তিহীন অভিযোগে শিক্ষার্থীদের নামে মামলা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ভিসি শুচিতা শরমিনের বিরুদ্ধে।
যৌক্তিক এসব আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে দেয়া ভিসির মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। একাধিক শিক্ষক জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির পেছনে ভিসির একক সিদ্ধান্ত ও অদূরদর্শীতাই দায়ী। প্রশাসনের অগণতান্ত্রিক আচরণে শিক্ষার্থীরা আরো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি অফিসার সানোয়ার পারভেজ লিটন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রারের রুমে তালাবদ্ধ করে। এ কারণে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আমার পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে। আসলে আমার পক্ষ থেকে বলতে উপর থেকে যে নির্দেশ দেয়া হয় সেটাই আমার করতে হয়। অতীতের মামলাগুলোও তাদের নির্দেশক্রমেই করতে হয়েছে।’
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে আপাতত ১০ জন শিক্ষার্থীর নামে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।’
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী রাকিন খান বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এমন যৌক্তিক আন্দোলনে হামলা মামলা দিয়ে আন্দোলন দমন করা হতো। এখনো আমরা দেখছি আমাদের ভিসি আন্দোলন দমন করতে ফ্যাসিবাদের মতো মামালা দিয়ে যৌক্তিক আন্দোলন দমন করতে চাচ্ছে। এসব করে তিনি ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসনের পথ সুগম করতে চায়। যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতে করতে দেয়া হবে না। এছাড়া এসব মিথ্যা মামলা ও জিডি করে আমাদের আন্দোলন থামাতে পারবে না।’
এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন, ‘ভিসি একদিকে বেআইনি ক্ষমতাবলে স্বৈরাচারের দোসরদের রক্ষা করছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন দমনে একের পর এক মামলা দিয়ে সকল যৌক্তিক আন্দোলন দমনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের এ ধরনের ফ্যাসিস্ট আচরণ নিন্দনীয়।’
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।
তবে প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আন্দোলনের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে বসে অবশ্যই বিষয়টি সমাধান করা জরুরি।’