‘শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার কোন বিকল্প নেই’ মন্তব্য করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মানসিক সমস্যা দূর করে মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বর্তমানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরে সারাদেশে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে ট্রমা কাজ করছে তার থেকে পরিত্রাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হচ্ছে এ ধরণের প্রশিক্ষণ আয়োজন করা।’

শনিবার (২৬ এপ্রিল) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত ‘কোর ট্রেইনার ট্রেনিং প্রোগ্রাম ফর কলেজ টিচার্স অন মেন্টাল হেলথ অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক ৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা ও পাশের জেলার কলেজসমূহের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরো বলেন, ‘এবারের প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য একটু ভিন্ন। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিটি কলেজে অন্তত একজন করে কো-ট্রেইনার তৈরি করতে চাই যাতে তারা তাদের কলেজে গিয়ে অন্য শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। পর্যায়ক্রমে সেই শিক্ষকগণ তার ক্লাসের শিক্ষার্থীদের আমাদের নির্দেশনা মোতাবেক মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে শিক্ষা প্রদান করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও খুব গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে কলেজসমূহে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির বিপ্লব ঘটানোর আশা ব্যক্ত করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘শুধুমাত্র শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে নয়, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানের মানব সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে বৃহত্তর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

ড. এ এস এম আমানুল্লাহ আরো বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি ও মনোযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এইরকম মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকরা তাদের কলেজের শিক্ষার্থীদের মানসিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারবে বলেও তিনি মতপ্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. ফকির রফিকুল আলম এবং ভিসির দফতরের পরিচালক ও সচিব এবং রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আমিনুল আক্তার।

সমাপনী অনুষ্ঠান তত্ত্বাবধানে ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ দফতরের পরিচালক সালমা পারভীন।

৪ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রফেসর কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী কোর্স অ্যাডভাইজার এবং সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর রহমান কোর্স কো-অর্ডিনেটরের পাশাপাশি রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্য রিসোর্স পারসনের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক লিজা আক্তার এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি ট্রেনিং সেন্টারের চাইল্ড সাইকোলজি বিভাগের সিনিয়র ইনস্ট্রাক্টর ড. ফাইজা আহমেদ প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে লেকচার প্রদান করেন।

এই প্রশিক্ষণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ঢাকা ও পাশের জেলার কলেজসমূহের ৫৬ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন। এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম গত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।

অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।