বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো: সাইফুল ইসলাম বলেছেন, ‘বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নে অনেক অংশীজন রয়েছে। তবে সম্মিলিত প্রয়াসে বিনিয়োগের উন্নয়ন পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এছাড়া সিলেটে নতুন শিল্পনগরী প্রতিষ্ঠার চাহিদা থাকলে স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে তার উদ্যোগ নেয়া হবে। এতে বিসিক তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।’

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বিসিক সিলেট জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে এবং দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

‘সিলেট জেলা হালকা প্রকৌশল শিল্পের উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল অথবা নির্গত বর্জ্য নিষ্কাশনে পরিবেশ দূষণ ও প্রতিকার‘ বিষয়ের ওপর এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে সিলেটের শিল্প উদ্যোক্তাদের এক প্রশ্নের জবাবে বিসিক চেয়ারম্যান বলেন, ‘মেলার মাধ্যমে পণ্যের প্রচার-প্রচারণার বিষয়টি সামগ্রিকভাবে বিসিকের উপর নির্ভর করে না। বিসিকের যারা অংশীজন আছেন তারাও নিজ উদ্যোগে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন। উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার-প্রসার ও বিপণনের জন্য যে পরিমাণ উদ্যোগ ও আয়োজনের দরকার বিসিক তা সবসময় অব্যাহত রেখেছে।’

উদ্যোক্তা ঝরে পড়ার কারণ নিয়ে বিসিকের গবেষণা সেল আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘চিন্তা-ভাবনা ও ব্যবসার পরিবর্তন, বিদেশ চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ২০-২৫ শতাংশ উদ্যোক্তা ঝরে যাওয়া স্বাভাবিক। তারপরেও বিসিকের উচিত যারা এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সম্পৃক্ত হয়েছে তাদের ধরে রাখা। এ প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল না হলেও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।’

দূষণকে নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শিল্প বর্জ্য যদি সর্বত্র পানি ও মাটির সাথে মিশে খাদ্যচক্রে পৌঁছে যায় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম টিকবে না। পৃথিবীতে যে পরিমাণ সম্পদ আছে তার পুরোটাই ভোগ করার অধিকার কারো নেই। শিল্প স্থাপনের কারণে যাতে বাস্তুসংস্থান ধ্বংস না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার জন্য শিল্প বর্জ্যগুলো রিসাইকেল ও পুনর্ব্যবহার করতে হবে।’

এছাড়া বিসিকে অবৈধ প্লট বাতিল ও এ সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এছাড়া যারা প্লট নিয়ে শিল্প স্থাপন করছেন না এবং ৫-১০ বছর পর তা হাত বদলের মতলবে আছেন তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান বিসিকের এ কর্মকর্তা।

বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: সুহেল হাওলাদারের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক (দক্ষতা ও প্রযুক্তি) মো: সহিদুজ্জামান, নাসিব সিলেটের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল হামিদ।

এ সময় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সালাতুল ইসলাম মজুমদার।