নাটোরের লালপুরে সাজিদ জুট মিলে ডাকাতির ঘটনায় লুণ্ঠিত মালামালসহ ছয় ডাকাত সদস্যকে পাবনা থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং এসব তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক।

গ্রেফতাররা হলেন পাবনা জেলার আটঘড়িয়া থানার হায়দারপুর গ্রামের মরহুম বেল্লাল মৃধার ছেলে মাহাতাব মৃধা (৩৩), তারাপাশা এলাকার গোলাপ হোসেনের ছেলে সেলিম হোসেন (৩১), সদর থানার মাছিমপুর এলাকার মরহুম আকুব্বর প্রামানিকের ছেলে লিটন প্রামানিক (৪৫), চরঘোষপুর এলাকার মিঠু শেখের ছেলে সাদ্দাম হোসেন (৩৭), মরহুম মোফাজ্জল মণ্ডলের ছেলে আব্দুল খালেক (৩৫) ও কোষাখালী এলাকার আজগর আলীর ছেলে সাগর শেখ (২৩)।

মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, চলতি বছরের ৩০ মে রাতে লালপুরের ঈশ্বরদি সীমান্ত এলাকায় শ্রীরামগাড়ি এলাকায় সাজিদ জুট মিলে অজ্ঞাত পরিচয়ের ১২ থেকে ১৪ জনের একটি ডাকাত দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পেছন দিক দিয়ে মিলের ভেতরে প্রবেশ করে। পরে মিলের একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারসহ চারজন স্টাফকে বেঁধে পৃথক পৃথক ঘরে ফেলে রেখে সারারাত মালামাল লুণ্ঠন করে। পরে একটি পিকআপভ্যানে করে প্রায় ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় একই দিন বিকেলে জুট মিলের মালিক সাজিদ মল্লিক লালপুর থানায় অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামিদের নামে একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাবনা জেলার আটঘরিয়া এবং পাবনা সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত ছয় ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। একইসাথে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৩০০ কেজি তামার তার, মালামাল বিক্রির নগদ ৫০ হাজার টাকা, ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপভ্যান, একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও পাঁচটি মোবাইল জব্দ করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, ‘ব্রিফিং শেষে আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ চক্রের সাথে জড়িত অন্য সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’