গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক মামলার এজাহারে আসামির সংখ্যা বাড়িয়ে ‘মামলাবাণিজ্য’ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ মে) টঙ্গী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্থানীয় নেতা সালাউদ্দিন সাদিক দাবি করেন, তার এজাহারে ৫২ জন আসামির নাম থাকলেও থানায় তা পরিবর্তন করে ১১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে তার ওপর জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন সাদিক অভিযোগ করে বলেন, গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ এজাহার থেকে প্রকৃত আসামিদের নাম বাদ দিয়ে নিরীহ ও নির্দোষ মানুষকে আসামি করে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের সহযোগিতায় মোটা অঙ্কের ঘুষ বাণিজ্য করেছেন।
তার দাবি, পরিবর্তিত এজাহারে বর্ণিত প্রায় এক ডজন আসামি বাদে বাকি কাউকে তিনি চিনেন না।
আবেগজড়িত কণ্ঠে সালাউদ্দিন সাদিক ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘১৯ জুলাই উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর আধুনিক হাসপাতালের সামনের গলিতে শহীদ রেদওয়ান শরীফ রিয়াদ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার কোলে শহীদ হন। ওই দিন রিয়াদের রক্তে আমার পুরো শরীর ভিজে গিয়েছিল।’
তিনি জানান, ২০ জুলাই তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। ৫ আগস্টের স্বৈরাচারী পতনের পর থেকে জুলাইয়ের নির্মম স্মৃতিগুলো তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে এবং যারা এই ঘটনায় জড়িত ছিল তাদের শাস্তির দাবিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৫২ জন সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে মামলা করতে চেয়েছিলেন।
সাদিক বলেন, ‘আমি নিজে বাদী হয়ে ২৫(৪) ২০২৫ নম্বর মামলাটি ৫২ জন আসামিকে অভিযুক্ত করে করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু গাছার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং যুবলীগ নেতাকর্মীরা চক্রান্ত করে মামলাটি নিজেদের মতো করে সাজিয়ে আমাকে জিম্মি করে ১১৮ জনকে আসামি করেছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে প্রায় ৯০ জনকেই তিনি চিনেন না এবং অনেক সাধারণ নিরপরাধ মানুষকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দকে ব্যবহার করে আসামি করা হয়েছে।
তিনি আরো দাবি করেন, ওসি তার শনাক্ত করা অনেক প্রকৃত আসামির কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে তাদের নাম বাদ দিয়েছেন।
সাদিক আরো অভিযোগ করেন, এই অনিয়মের প্রতিবাদ করায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করায় ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদ ও যুবলীগের কর্মীরা তাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন এবং ফোনে তাকে চুপ করানোর জন্য অর্থের প্রস্তাব দিচ্ছেন।
তিনি ওসি রাশেদকে ‘স্বৈরাচারীর দোসর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি প্রতিটি ব্যাপারেই অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। এই ঘটনাগুলো তিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন এবং স্বয়ং জিএমপি কমিশনার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে, এই অভিযোগের বিষয়ে গাছা থানার ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি তা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, ‘ওই মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তা বাদির সম্মতিতেই করা হয়। মামলার কপিতে যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের নাম ঠিকানা দেখেই তিনি (বাদী) মামলায় স্বাক্ষর করেছেন।’
ওসি আরো বলেন, তিনি আসামিদের কাউকে চিনেন না এবং বাদী যে অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।