সিলেট নগরকে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে সুরমা নদীকেন্দ্রিক একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশেন (সিসিক)। নদীর দুই তীরজুড়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকা সংরক্ষণ ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যা নগরের পরিবেশ ও বন্যা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, আগামী ২ মে সিলেট সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

রোববার (২৬ এপ্রিল) এ উপলক্ষে ক্বিনব্রিজ সংলগ্ন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি সাংবাদিকদের জানান, প্রকল্পের আওতায় নদীর দুই তীরে শক্তিশালী বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য ওয়াকওয়ে নির্মাণ, নদীতীর সৌন্দর্যবর্ধন, স্লুইস গেট স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নগরবাসী আধুনিক ও নান্দনিক নদীতীর পাবে এবং জলাবদ্ধতা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সিলেট সফর আমাদের জন্য অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম সিলেট সফর। আমরা তার আগমনকে স্বাগত জানাই এবং সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

তিনি আরো জানান, মৃতপ্রায় সুরমা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে খননসহ প্রয়োজনীয় উন্নয়ন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বরাক নদ থেকে উৎপত্তিস্থল জকিগঞ্জের আমলসীদ থেকে শুরু করে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের মারকুলি পর্যন্ত নদী খননের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এর ফলে সুরমা ও কুশিয়ারার নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং জলাবদ্ধতা নিরসনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক মো: সারওয়ার আলম, সিসিক সচিব মো: আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী মো: আলী আকবর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, সহকারী প্রকৌশলী অংশুমান ভট্টাচার্য্য ও লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি আগামী ২ মে সিলেট সফরে আসবেন। এদিন তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি সিলেট নগরীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং সিটি করপোরেশনে সুধী সমাবেশে যোগ দেবেন।