ফেনী শহরের বারাহিপুর এলাকায় কলেজ ছাত্রীকে অপহরণের মামলায় তিন আসামিকে ১৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

সোমবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এএনএম মোর্শেদ খান এ রায় দেন।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ২৬ জুন সকালে ফেনী শহরের শিবপুর এলাকার বাড়ি থেকে কম্পিউটার ইনস্টিটিউটে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন এক ছাত্রী। ফেনী গার্লস ক্যাডেট সংলগ্ন স্থানে পৌঁছলে মাইক্রোবাসে করে অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ঘটনার পরদিন ওই ছাত্রীর বাবা ফেনী মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর অপহরণকারীরা তাকে নেত্রকোনা, পরবর্তীতে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যায়। পরদিন পুলিশ তাকে উদ্ধার করে ও তৈয়ব নামে একজনকে গ্রেফতার করে। ওই দিনই সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল্লাহর আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়া হয়। মামলাটি তদন্ত করে একই বছরের ২২ অক্টোবর শিবপুর এলাকার পন্ডিত বাড়ির সেলিম জাহাঙ্গীরের ছেলে মো: তৈয়ব উল্যাহ, উত্তর চাঁড়িপুর সামছুল হক মৌলভী বাড়ির আবদুল হক মুয়াজ্জিনের ছেলে শহীদুল ইসলাম বাপ্পী, একই বাড়ির আবদুল হাইয়ের ছেলে আবদুর রহিম সজীব ও উত্তর শিবপুর এলাকার সাইদুল হকের ছেলে মো: সবুজকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুস সালাম। ২০১৬ সালের ১৭ জুন অভিযোগ গঠনের পর বিচার কাজ শুরু হলে ৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আদালত দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ রায় ঘোষণার সময় সবুজকে খালাস ও অপর তিনজনকে ১৪ বছর কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি সাহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি তৈয়ব উল্যাহ, শহীদুল ইসলাম ও আবদুর রহিম পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতারের পর তাদের রায় কার্যকর হবে।