বগুড়ায় করতোয়া নদীর জায়গা দখলমুক্ত করতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আগে আদালতে চলমান মামলা আমলে নেয়নি জেলা প্রশাসন।
আদালত মামলা শুনানির জন্য নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) টিএমএসএস-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিসিএল গ্রুপের গ্লাস ফ্যাক্টরির বিশাল অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে। এ ধরনের অভিযানে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) পাঁচ তারকা হোটেল মমইন-এর কনভেনশন হলে বিসিএল গ্রুপ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া জানান উক্ত গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সারওয়ার মোহাম্মাদ।
এ সময় টিএমএসএস এর ভূমি ও আইন বিভাগের উপপরিচালক নজিবর রহমান জিয়াসহ অন্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
গত ৯ এপ্রিল (বুধবার) সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে করতোয়া নদী দখলমুক্ত করতে বগুড়া জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ অভিযানে করতোয়া নদীর সীমানায় স্থাপিত বেসরকারি সংস্থা টিএমএসএস-এর পুণ্ড্র ইকোনমিক জোনের অন্তর্ভুক্ত বিসিএল গ্রুপের বিসিএল গ্লাস ফ্যাক্টরিসহ ১১টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এতে সরকারি ৯৩ শতাংশ সম্পত্তি দখলমুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিএল গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালনা সারওয়ার মোহাম্মাদ বলেন, বিসিএল গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ৩৮ একর জমির উপর অবস্থিত। এর মধ্যে টিএমএসএ্স থেকে প্রাপ্ত সরকারের নিকট থেকে বেশকিছু সম্পত্তি লিজ নিয়ে ৩০ বছর ধরে ভোগ দখল করে আসছে। যে ৯৩ শতক জমির উপর গ্লাস ফ্যাক্টরির শেড নির্মাণ করা হয়েছে তা সরকারি লিজ দেয়া নয় টিএমএসএস-এর কবলা সম্পত্তি।
তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড একতরফাভাবে নদীর সীমানা চিহ্নিত করে কবলা সম্পত্তি নদীর সম্পত্তি দেখাইয়া গত ফ্রেব্রুয়ারি মাসে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। এরপর আদালত উচ্ছেদ নোটিশের প্রতি প্রথমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও পরে নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন জেলা জজ আদালতে আপিল করে যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নোটিশ পাওয়া সত্ত্বেও জেলা প্রশাসক শেড স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর ফলে শেডের ভিতরে ভারী ভারী যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উচ্ছেদ শুরু হলে কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীকে ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় আমদানি করা দামি মেশিনারিজ কন্টেইনারগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই পূর্বের মামলার রায় বহাল থাকা সত্ত্বেও উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক বলেছেন, কর্তৃপক্ষকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নোটিশ দেয়া হয়েছিল। সেই মোতাবেক তাদের স্থাপনা নিজেরা সরিয়ে না নেয়ায় উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু মাত্র নদীর সীমানা অংশে অভিযান চালানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বগুড়া জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা জানান, সরকার সারাদেশে সাতটি নদীকে দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে বগুড়ার করতোয়া নদী একটি। করতোয়ার উন্নয়নে ইতোমধ্যে পানি প্রবাহের জন্য খনন কাজ চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে শুধু করতোয়া নদী নয় বগুড়ায় নদী কেন্দ্রিক সরকারি সকল জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরো জানান, আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন থাকলেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনায় কোনো বাধা ছিল না।